এবারের বৃত্তির সংখ্যা এবং ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাসিক ও এককালীন টাকার পরিমাণে বড় ধরনের পরিবর্তন বা বৃদ্ধির প্রস্তাব আনা হয়েছে। বৃত্তির টাকা ও ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
আরও পড়ুন:
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল ২০২৫ (DPE Primary Scholarship Result Overview)
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় দেশের ৭৮ হাজার ৮১০টি বিদ্যালয় থেকে মোট ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৪১ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন (Primary scholarship registration) করেছিল। এর মধ্যে পরীক্ষায় সরাসরি অংশ নেয় ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৮২ জন।
যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্তভাবে মোট ৭৯,২৪৬ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তির জন্য মনোনীত করা হয়েছে, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৩৮.৮৭ শতাংশ।
- ট্যালেন্টপুল বৃত্তি (Talentpool Scholarship): মোট ৩২ হাজার ৯৬৫ জন শিক্ষার্থী মেধাবৃত্তি বা ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে।
- সাধারণ বৃত্তি (General Scholarship): মোট ৪৬ হাজার ২৮১ জন শিক্ষার্থী সাধারণ কোটায় বৃত্তি পেয়েছে।
আরও পড়ুন:
মাসিক ও এককালীন যত টাকা পাবে শিক্ষার্থীরা (Primary Scholarship Monthly and One-Time Allowance)
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী জানান, বৃত্তির মোট সংখ্যা (৮২ হাজার ৫০০টি) আগের মতোই রাখা হয়েছে। তবে ২০২৬ সালের জন্য প্রস্তাবিত নতুন কাঠামো অনুমোদিত হলে বৃত্তির টাকার পরিমাণ সরাসরি দ্বিগুণ (Primary scholarship money double) হয়ে যাবে।
নিচে বর্তমান ও প্রস্তাবিত নতুন টাকার কাঠামোর তুলনামূলক হিসাব দেয়া হলো:
১. ট্যালেন্টপুল বা মেধাবৃত্তি (Talentpool Scholarship Amount)
- বর্তমান হার: বর্তমানে ট্যালেন্টপুল প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে ৩০০ টাকা (Monthly 300 TK) এবং বছরে এককালীন ২২৫ টাকা করে পাচ্ছে।
- প্রস্তাবিত নতুন হার: নতুন নিয়ম পাশ হলে শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে ৬০০ টাকা (Monthly 600 TK) এবং বছরে এককালীন ৪৫০ টাকা (One-time 450 TK) করে পাবে।
২. সাধারণ বৃত্তি (General Scholarship Amount)
- বর্তমান হার: সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে ২২৫ টাকা এবং বছরে এককালীন ২২৫ টাকা করে পাচ্ছে।
- প্রস্তাবিত নতুন হার: নতুন নিয়ম অনুযায়ী তারা প্রতি মাসে ৪৫০ টাকা (Monthly 450 TK) এবং বছরে এককালীন ৪৫০ টাকা পাবেন।
আরও পড়ুন:
কত বছর পর্যন্ত এই বৃত্তির টাকা দেয়া হবে? (Scholarship Duration for Class 6 to 8)
অনেক অভিভাবকই জানতে চান প্রাথমিকে বৃত্তি পাওয়া টাকা কতদিন পর্যন্ত পাওয়া যায়। নিয়ম অনুযায়ী, পঞ্চম শ্রেণির এই প্রাথমিক বৃত্তির টাকা শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত (Class 6 to Class 8) টানা তিন বছর পাবে।
একটি টেকনিক্যাল বিষয় হলো- পরীক্ষা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (DPE) অধীনে হলেও এই বৃত্তির টাকা বণ্টন ও প্রদান করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর বা মাউশি (DSHE)। কারণ, পঞ্চম শ্রেণি পাশ করার পর শিক্ষার্থীরা যখন বৃত্তির টাকা হাতে পায়, তখন তারা মাধ্যমিকে (High School) পড়াশোনা শুরু করে। এরপর অষ্টম শ্রেণিতে আবার জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা (Junior Scholarship Exam) অনুষ্ঠিত হবে এবং সেই ফলাফলের ভিত্তিতে দশম শ্রেণি পর্যন্ত নতুন করে বৃত্তি দেয়া হবে।
২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (dpe.gov.bd) থেকে রোল নম্বর ও থানা কোড দিয়ে সহজেই চেক করা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন:
প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নতুন ও বর্তমান টাকার হারের তুলনা
একনজরে: Primary Scholarship Talentpool & General Category Updated Rate
১. ট্যালেন্টপুল বা মেধাবৃত্তি
• মাসিক ভাতা: ৩০০ টাকা (Monthly 300 TK)
• বার্ষিক এককালীন: ২২৫ টাকা
• মাসিক ভাতা: ৬০০ টাকা (Monthly 600 TK)
• বার্ষিক এককালীন: ৪৫০ টাকা (One-time 450 TK)
২. সাধারণ বৃত্তি
• মাসিক ভাতা: ২২৫ টাকা
• বার্ষিক এককালীন: ২২৫ টাকা
• মাসিক ভাতা: ৪৫০ টাকা (Monthly 450 TK)
• বার্ষিক এককালীন: ৪৫০ টাকা
• নতুন নিয়ম পাস বা অনুমোদিত হলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ পূর্বের তুলনায় সরাসরি দ্বিগুণ (Double) হয়ে যাবে।
• নতুন এই কাঠামোটি অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সাপেক্ষে কার্যকর করা হবে।
বৃত্তির ক্যাটাগরি
(Scholarship Category)বর্তমান হার
(Current Rate)প্রস্তাবিত নতুন হার
(Proposed New Rate)
(Talentpool Scholarship)
(General Scholarship)
গুরুত্বপূর্ণ আপডেট নোট
আরও পড়ুন:


