ফলাফল উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন (Primary and Mass Education Minister Anm Ehsanul Hoque Milan)। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ (State Minister Bobby Hajjaj) এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী (DPE Director General Shahina Ferdousi)।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর মোট ৭৯,২৪৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ট্যালেন্টপুলে (মেধাবৃত্তি) নির্বাচিত হয়েছে ৩২,৯৬৫ জন শিক্ষার্থী। বাকি ৪৬,২৮১ জন শিক্ষার্থী সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর পরই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আইপিইএমআইএস (IPEMIS) অফিশিয়াল ওয়েবসাইট এবং মোবাইল এসএমএসের (SMS) মাধ্যমে ফলাফল একযোগে উন্মুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা তাদের রোল নম্বর, জেলা ও উপজেলার তথ্য ব্যবহার করে সহজেই পূর্ণাঙ্গ মার্কশিট দেখতে ও ডাউনলোড করতে পারছেন।
আরও পড়ুন:
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল ও পাশের পরিসংখ্যান (Primary Scholarship Result Statistics 2026)
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় মোট ৮২,৫০০টি বৃত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত (Total primary scholarship quota) থাকলেও যোগ্যতা ও অন্যান্য মানদণ্ড বিবেচনা করে মোট ৭৯,২৪৬ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হয়েছে (Total 79246 students awarded scholarship)। কোটা ও ক্যাটাগরি অনুযায়ী বৃত্তির বিস্তারিত পরিসংখ্যান নিচে তুলে ধরা হলো:
- ট্যালেন্টপুল বা মেধাবৃত্তি: এবারের পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে ৩২,৯৬৫ জন শিক্ষার্থী (Talentpool scholarship list 2026)। উল্লেখ্য, এবার ৩৩,০০০ শিক্ষার্থীকে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল।
- সাধারণ গ্রেড বৃত্তি: সাধারণ কোটায় বাকি ৪৬,২৮১ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হয়েছে (General grade scholarship result)। এই ক্যাটাগরিতে মোট ৪৯,৫০০টি বৃত্তি দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল।
অংশগ্রহণকারী বিদ্যালয় ও পরীক্ষার্থীর সংখ্যা (School and Attendance Details)
এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় দেশের সরকারি ও বেসরকারি স্কুলগুলোর অংশগ্রহণের চিত্র ছিল নিম্নরূপ:
- অংশগ্রহণকারী মোট বিদ্যালয়: এবার সারা দেশে মোট ৭৮,৮১০টি বিদ্যালয় পরীক্ষায় অংশ নেয় (Total participating schools)। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৫,৬০৫টি এবং বেসরকারি স্কুল ও কিন্ডারগার্টেন ১৩,২০৫টি।
- পরীক্ষায় মোট উপস্থিতি: পরীক্ষায় মোট ৪ লাখ ৮৩,৭৫৯ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল (Total student attendance)। যার মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের ৩ লাখ ৪৪,১২৭ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৭৫,৪৫৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
পার্বত্য জেলাসমূহে বিশেষ সময়সূচিতে পরীক্ষা (Primary Scholarship Exam Date and Schedule)
ভৌগোলিক ও বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে দুই দফায় এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল:
সাধারণ জেলাসমূহ: পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের অন্য সব জেলায় গত ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত এই পরীক্ষা চলে (Primary scholarship exam date 2026)।
পার্বত্য তিন জেলা: রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় বিশেষ সময়সূচি (Special exam schedule for hilly districts) অনুযায়ী ১৭ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হয়।
ফল আগাম ফাঁসের বিতর্ক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা (Primary Scholarship Result Leak Controversy & Action)
গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের কথা থাকলেও তার আগের দিনই অর্থাত্ ৮ জুলাই ফলাফল সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়।
প্রস্তুত করা ফলাফল ওয়েব পোর্টালে আপলোড করতে প্রয়োজনীয় লিংক তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল অধিদপ্তরের সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মো. মেহতাব কায়েসকে। নির্দেশ ছিল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ফল আপলোড না করার। কিন্তু ৯ জুলাই সকাল ১০টায় ঢাকা বিভাগের ৯টি জেলার ফলাফল (Dhaka division 9 districts scholarship result) নির্দিষ্ট লিংকে আপলোড করে দেওয়া হয়। সাধারণ ব্যবহারকারীরা সেই লিংক থেকে ফল দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করলে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এই অসদাচরণের অভিযোগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী মেইনটেন্যান্স মো. মেহতাব কায়েসকে গত শুক্রবার চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত (Assistant maintenance officer suspended) করে প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় (Ministry of Primary and Mass Education)। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এছাড়া পুরো ঘটনা তদন্তে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর একটি তদন্ত কমিটি (DPE investigation committee) গঠন করেছে।
আরও পড়ুন:
২ পদ্ধতিতে ঘরে বসে ফলাফল দেখার অফিশিয়াল নিয়ম (How to Check DPE Scholarship Result Online and SMS)
শিক্ষার্থীরা এখন কোনো ঝামেলা ছাড়াই ২টি অফিশিয়াল মাধ্যমে তাদের রেজাল্ট ও মার্কশিট চেক করতে পারবেন:
১. অনলাইন পোর্টাল (Online Website): সরাসরি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিশিয়াল আইপেমিস লিংকে প্রবেশ করে রোল নম্বর, জেলা ও উপজেলার তথ্য দিয়ে মার্কশিট ডাউনলোড করা যাবে।
২. মোবাইল এসএমএস (SMS Method): যেকোনো মোবাইল অপারেটরের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে- DPE <স্পেস> রোল নম্বর এবং পাঠিয়ে দিতে হবে ১৬২২২ নম্বরে। (যেমন: DPE 123456 লিখে পাঠান 16222 নম্বরে)।
বৃত্তির টাকার পরিমাণ ও মেয়াদ (Scholarship Amount and Duration)
নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা আগামী দুই বছর (ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালীন) এই আর্থিক সুবিধা ভোগ করবে:
- ট্যালেন্টপুল বৃত্তি: প্রতি মাসে ৩০০ টাকা (300 BDT Per Month)।
- সাধারণ গ্রেড বৃত্তি: প্রতি মাসে ২২৫ টাকা (225 BDT Per Month)।
- এককালীন অনুদান: উভয় শ্রেণির বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা প্রতি বছরে এককালীন ২২৫ টাকা করে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা পাবে।
আরও পড়ুন:
অবশেষে প্রাথমিক বৃত্তির ফলাফল প্রকাশ: বৃত্তি পেয়েছে ৭৯,২৪৬ শিক্ষার্থী, জানুন রেজাল্ট দেখার ২ অফিশিয়াল নিয়ম
একনজরে: Primary Scholarship Result 2026 Released (Online & SMS Guide)
• মোট বৃত্তিপ্রাপ্ত: ৭৯,২৪৬ জন শিক্ষার্থী।
• ট্যালেন্টপুল (মেধা): ৩২,৯৬৫ জন শিক্ষার্থী।
• সাধারণ গ্রেড: ৪৬,২৮১ জন শিক্ষার্থী।
মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখুন: DPE <স্পেস> রোল নম্বর এবং পাঠিয়ে দিন ১৬২২২ নম্বরে।
উদাহরণ: DPE 123456
১. আইপেমিস পোর্টালে প্রবেশ করুন।
২. ‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা’ অপশন সিলেক্ট করুন।
৩. রোল নম্বর, জেলা ও উপজেলার নাম দিয়ে সাবমিট করুন।
• মোট উপস্থিত পরীক্ষার্থী: ৪,৮৩,৭৫৯ জন।
• অংশগ্রহণকারী স্কুল: ৭৮,৮১০টি (সরকারি ৬৫,৬০৫টি ও বেসরকারি ১৩,২০৫টি)।
• আজ ১২ জুলাই, দুপুর ১২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফল উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
• গত ৯ জুলাই অনুমতি ছাড়া আগাম ফল আপলোড করার অপরাধে সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মো. মেহতাব কায়েসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিষয় ও মাধ্যম
(Topic & Method)বিস্তারিত তথ্য ও দেখার নিয়ম
(Details & Rules)পরিসংখ্যান ও লিংক
(Stats & Links)
বৃত্তির মূল পরিসংখ্যান
মোট লক্ষ্য: ৮২,৫০০
পদ্ধতি ১: মোবাইল এসএমএস
যেকোনো মোবাইল অপারেটর সিম
পদ্ধতি ২: অফিশিয়াল ওয়েবসাইট
ipemis.dpe.gov.bd
পরীক্ষার তথ্য ও উপস্থিতি
পরীক্ষা অনুষ্ঠিত:
এপ্রিল ২০২৬
জরুরি আপডেট ও ঘোষণা


