Recent event

‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির’ অধ্যাদেশ জারি

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি | ছবি: এখন টিভি
0

রাজধানীর সাত সরকারি কলেজের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থাপনায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠন করে অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। খসড়া অধ্যাদেশের প্রস্তাবের মতো সাতটি কলেজকে চারটি স্কুলে বিভক্ত না করে চূড়ান্ত অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কলেজগুলোর স্বকীয়তা বজায় রেখে একাডেমিকভাবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যুক্ত থাকবে। আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গতকাল (রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি) ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬’ গেজেট আকারে প্রকাশ করে।

এ অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থাপনায় নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত হলো।

কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে এ বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের অপেক্ষায় ছিলেন। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, সাতটি কলেজের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের পাঠ্যক্রম, শিক্ষক, সনদায়নসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টি গঠন করা হচ্ছে।

এ অধ্যাদেশের বিধান অনুযায়ী ঢাকায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় সুবিধা সম্বলিত স্থায়ী ক্যাম্পাস তৈরি করা হবে। তবে স্থায়ী ক্যাম্পাস তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ভবন ও জায়গা ভাড়া করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

সাতটি কলেজ ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সংযুক্ত কলেজ হিসাবে থাকবে। সংযুক্ত কলেজগুলোর পরিচয়, বৈশিষ্ট্য, অবকাঠামো, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ও অন্যান্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা অক্ষুণ্ণ থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, সিনেট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যদের সমন্বয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নামে এই স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান গঠিত হবে।

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির দায়িত্ব ও ক্ষমতা নিয়ে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় ও সংযুক্ত কলেজে শিক্ষাদানের জন্য পাঠ্যক্রম নির্ধারণ ও পরীক্ষা গ্রহণ; জ্ঞান-বিজ্ঞানের যে কোনো শাখায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষাদান, গবেষণা, জ্ঞানের সৃজন, উৎকর্ষ সাধন ও বিতরণের ব্যবস্থা করা; কর্মদক্ষ জনসম্পদ সৃষ্টির জন্য, আধুনিক প্রযুক্তি, পেশা, বৃত্তি ও অর্থনৈতিক চাহিদার ভিত্তিতে উচ্চশিক্ষার নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের কোর্স প্রণয়ন ও পরিচালনা করা; আর বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের কোনো কোর্স শেষ করা ব্যক্তিদের অধ্যয়নকৃত বা গবেষণাকৃত বিষয়বস্তুর মূল্যায়ন করা এবং ডিগ্রি, ডিপ্লোমা, সার্টিফিকেট দেয়া; সম্মানসূচক ডিগ্রি বা অন্য কোনো সম্মাননা দেয়া।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, অধ্যাপক, সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ও এমিরেটাস অধ্যাপকের পদসহ গবেষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যে কোনো পদ সৃষ্টি করা এবং সংশ্লিষ্ট সিলেকশন বোর্ডের সুপারিশ শেষে নিয়োগ দেয়ার ক্ষমতা রাখবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কলেজগুলোর প্রশাসনিক প্রধান পদে থাকবেন অধ্যক্ষরা। আর ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রধান হবেন উপাচার্য। সংযুক্ত কলেজগুলো শিক্ষকরা কলেজ শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা শুধু শিক্ষক হিসেবে অবিহিত হবেন।

সংযুক্ত কলেজসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত সব শিক্ষাদান ও গবেষণা কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করবে। শিক্ষাদানের মধ্যে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক ও অন্যান্য শিক্ষকদের দেয়া বক্তৃতা, পরীক্ষাগার বা কর্মশালায় কার্যক্রম, টিউটোরিয়াল, ভার্চুয়াল এবং অন্যান্য শিক্ষাদান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাঠ্যক্রম, পাঠ্যসূচি ও শিক্ষাদান পদ্ধতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল নির্ধারণ করবে।

এক সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থাকা এ কলেজগুলোকে ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়েছিল। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তুলে কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি তোলেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ‘ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে’ সরকার পরিবর্তনের পর সে আন্দোলন আরও বেগবান হয়। সাত কলেজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমকক্ষ একটি স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর রূপরেখা প্রণয়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানকে প্রধান করে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি কলেজগুলোর অধিভুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, তখন এ কলেজগুলোতে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়া চলছিল। পরে অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠন করে কলেজগুলোতে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ইউজিসি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপরেখা প্রস্তাব করে। তার ভিত্তিতে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশের খসড়া প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

খসড়ায় সাতটি কলেজকে চারটি স্কুলে বিভক্ত করে ‘ইন্টারডিসিপ্লিনারি’ কাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রস্তাব করা হয়। বলা হয়, কলেজগুলোতে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদানও চালু থাকবে। কিন্তু প্রস্তাবিত স্কুলিং কাঠামোর বিরোধিতা করেন কলেজগুলোর শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষকরা। তাদের আশঙ্কা ছিল, ওই কাঠামোতে তাদের পদোন্নতির মত মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হবে।

তারা কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে ‘অধিভুক্তিমূলক কাঠামোতে’ নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছিলেন। আর কলেজগুলোর বর্তমান শিক্ষার্থীদের একাংশ নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টির আইনি কাঠামো দ্রুত নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে দ্রুততম সময়ে অধ্যাদেশ জারির দাবিতে আন্দোলনে নামে।

অবশেষে এ বছর ২২ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ স্থাপনের জন্য অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন করে। দুই সপ্তাহ পর তা গেজেট আকারে জারি হলো।

এনএইচ