ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির বিকাশে প্রাথমিক বরাদ্দ ৩০০ কোটি টাকা

বাজেট ২০০২৬-২৭
বাজেট ২০০২৬-২৭ | ছবি: এখন টিভি
0

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ সরকার। এর অংশ হিসেবে প্রাথমিক পর্যায়ে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার, ১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর খাত থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকার তহবিল সংগ্রহ করা হবে বলেও বাজেট উত্থাপনে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য দেশের ক্রিয়েটিভ শিল্পের বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে উন্মুক্ত করার মাধ্যমে অর্থনীতির মূল ধারায় নিয়ে আসা এবং বাংলাদেশের জিডিপিতে এই খাতের অবদান ১.৫ শতাংশে উন্নীত করা। এ খাতের টেকসই উন্নয়নে সরকারি, বেসরকারি এবং এনজিও খাতের সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণে কর্মপরিকল্পনা ইতোমধ্যে হাতে নিয়েছি।’

বাজেট উত্থাপনে তিনি জানান, ক্রিয়েটিভ অর্থনীতিভিত্তিক পণ্য চিহ্নিতকরণ ও ডিজাইন উন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছে। দেশজুড়ে আঞ্চলিক সৃজনশীল হাব গড়ে তুলতে ১০ বছরের বিনিয়োগ ও সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে, যেমন- ঢাকার পূর্বাচলে ১৬০ একর জায়গার ওপর পিপিপি মডেলে বিশ্বমানের একটি সেন্ট্রাল ক্রিয়েটিভ হাব স্থাপনের বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং শিশু একাডেমি ও শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে ‘ক্রিয়েটিভ হাব’ স্থাপন করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও স্নাতক পর্যায়ের কলেজসমূহে ইনোভেশন হাব চালুর বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।

সরকারের ‘১টি-গ্রাম-১টি-পণ্য’ উদ্যোগ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতিভিত্তিক পণ্য যেমন: তাঁতশিল্প, মৃৎশিল্প, বুনন শিল্প, শীতলপাটি, শতরঞ্জি, কাঠের খেলনা, হাতে তৈরি গয়না, টেরাকোটা, ইত্যাদিসহ আরও অনেক পণ্য চিহ্নিত করা হচ্ছে।

ক্রিয়েটিভ পণ্যের উন্নয়ন ও নকশার মানোন্নয়নের জন্য দেশীয় ডিজাইনারদের সমন্বয়ে একটি ‘ন্যাশনাল পুল অব ডিজাইনারস’ গঠন করা হচ্ছে; বিসিকের আওতাধীন নকশাকেন্দ্রকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এর ভিত্তিতে আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশিষ্ট ফ্যাশন ডিজাইনারদের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে; অঞ্চলভিত্তিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ গ্রহণ করছে, যেমন- ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা সংস্কার করে আন্তর্জাতিক উৎসব আয়োজনের লক্ষ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ২-৩টি থিমের ওপর ভিত্তি করে দুটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

হেরিটেজ রেসটোরেশন ও আন্তর্জাতিক উৎসব আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা চিহ্নিত করা হচ্ছে। জাতীয় উৎসব, সাংস্কৃতিক উৎসব, আঞ্চলিক উৎসব, ইত্যাদি বহুমুখী ও ঐতিহ্যমণ্ডিত কার্যক্রমকে অন্তর্ভুক্ত করে মাসভিত্তিক ও থিমভিত্তিক জাতীয় ও আঞ্চলিক ক্যালেন্ডার প্রস্তুতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আমরা পর্যটন খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে ইকোট্যুরিজম উন্নয়নে বিশেষ নজর দিচ্ছি। এ লক্ষ্যে সরকার নিম্নোক্ত কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে পর্যটন খাতের পেশাজীবীদের বিশ্বমানের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশেষায়িত ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে।

রন্ধনশিল্পসহ (কিউলিনারি আর্ট) পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষণকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার লক্ষ্যে ইন্টারন্যাশনাল হসপিটালিটি বেঞ্চমার্ক নির্ধারণ করা হবে; পর্যটন খাতের প্রশিক্ষণার্থীদের ক্ষেত্রে বিশ্বখ্যাত সংস্থা কর্তৃক আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে সার্টিফিকেশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে; পর্যটন খাতের সামগ্রিক সম্ভাবনা, বৈচিত্র্য এবং আধুনিক ক্রিয়েটিভ থিমগুলোকে (ক্রিয়েটিভ থিমস) অন্তর্ভুক্ত করে একটি সময়োপযোগী ও সমন্বিত ‘পর্যটন মহাপরিকল্পনা’ দ্রুত চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক উৎসব ও বাজারে ক্রিয়েটিভ সম্ভাবনাকে তুলে ধরতে ‘ক্রিয়েটেড ইন বাংলাদেশ’ নামে জাতীয় ব্র্যান্ড চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। থিয়েটার ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ব্যাপকভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করা হবে। চলচ্চিত্রের উন্নয়ন এবং ওটিটি প্লাটফর্মে অংশগ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি মানসম্পন্ন স্টুডিও গড়ে তোলা হবে।

এএইচ