কাগজে কলমে প্রতিষ্ঠানের নাম অকোট্যাক্স লিমিটেড। কিন্তু বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব নেই। জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবির সঙ্গে মিল নেই হিসাবধারীর। নেই ট্রেড লাইসেন্স, এমনকি আমদানির কোনো বৈধ নথিপত্র। এমন অনিয়মের মধ্যেই সহজেই মেঘনা ব্যাংকের উত্তরা শাখায় খোলা হয় হিসাব। বিস্ময়ের বিষয়, এসব জালিয়াতি নিয়ে কোনো আপত্তিই তোলা হয়নি ব্যাংকের পক্ষ থেকে।
বিএফআইইউর সার্কুলার ২৬ এর গ্রাহক পরিচিতির দুই-এ অনুযায়ী, যে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কিংবা ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টের বৈধতা প্রমাণে ট্রেড লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা আছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আরও জালিয়াতির তথ্য। যার নামে হিসাব খোলা হয়েছে, সেই আবদুস সোবাহানের অ্যাকাউন্টে ২৫ লাখ টাকা জমার সময় দেয়া হয়নি আয়ের সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা অডিট রিপোর্ট। বিএফআইইউ’র সার্কুলার অমান্য করে আলোচিত অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট সীমার বাইরে গিয়ে দেদারসে করেছেন লেনদেনও। বিএফআইইউর সার্কুলার ২৬ এর ৩ এর আট এ বলা আছে, বড় অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে আয়ের বৈধ উৎস নিশ্চিত করতে হবে, যাচাই করতে হবে প্রয়োজনীয় নথিপত্র। যা পুরোপুরি অমান্য করছে ব্যাংকটি।
আরও পড়ুন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসাইন সিদ্দিক বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি নিয়ম আছে তথ্য যাচাই বাছাই করার। কিন্তু রেগুলারিটি বোর্ড তা মানেনি। আমি মনে এটা বড় একটা ব্যত্যয় ঘটেছে। ব্যাংক যেহেতু নিয়ম মানে নাই, যার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারে।’
এমনসব অনিয়মের বিরুদ্ধে জানতে চাইলে ক্যামেরার সামনে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হননি ব্যাংকটির উত্তরা শাখার বর্তমান ম্যানেজার। যদিও ক্যামেরার আড়ালে, বিষয়টি তার জানা আছে বলে জানান তিনি।
ব্যাংকিং খাতের এমন প্রকাশ্য অনিয়মে উদ্বিগ্ন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, ম্যানেজমেন্টের সরাসরি যোগসাজশ ছাড়া এমন অনিয়ম সম্ভব নয়।
বিআইবিএম’র সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরি বলেন, ‘ভুয়া কন্ট্যাক্ট আর ভুয়া এলসি ওপেন করে টাকা পয়সা নিয়ে গিয়েছে। এগুলো একেক জনের একেকটা মডেল, কিন্তু মূল বিষয়টি হলে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে টাকা বের করে নেয়া। সবাই এমনটা করছে, কারণ ব্যাংকব্যবস্থার নিয়ম অনেকটাই দুর্বল।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলছেন, এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যাংককেই নিতে হবে ব্যবস্থা। এর ব্যত্যয় হলেই কঠোর ব্যবস্থা নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘যারা ভুয়া তথ্য দিয়ে এসব অ্যাকাউন্ট খোলে, বুঝতে হবে তাদের মধ্যে দুর্নীতির মোটিভ কাজ করছে। প্রথমে যদি তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ না করা যায় তাহলে তারা বড় ধরনের দুর্নীতি করবে। আর ব্যাংকের উচিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া।’
মুখপাত্র বলছেন, অর্থপাচারের শুরুটাই হয় ভুয়া তথ্য দিয়ে ব্যাংক হিসাব খোলার মাধ্যমে। এটি রোধ করা না গেলে অর্থপাচার ঠেকানো অনেকটাই কঠিন বলে মত তার।




