দেশে যখন জ্বালানিখাত সংকটময় মুহূর্তে, তখন অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা পূরণে নানান কার্যক্রম চলমান রেখেছে সিলেট গ্যাসফিল্ড লিমিটেড। বর্তমানে তাদের ১৭টি উৎপাদিত কুপ থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ১৪২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। সাথে ৭০০ ব্যারেল কন্ডেনসেটও। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি দৈনিক ৩০০ থেকে ৩৫০ ব্যারেল এনজিএল থেকে সরবরাহ করছে ১৫০ ব্যারেল এলপি গ্যাস।
এসজিএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘এখান থেকে আমাদের খুব ভালো ফল দেখা গেছে। ইতিপূর্বে এ জোনে উত্তোলন করা হয়নি। তাই আমরা আশা করছি এখান থেকে আমরা ভালো অ্যামাউন্ট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে পারবো।’
আরও পড়ুন:
সিলেট গ্যাসফিল্ডের নতুন কুপ খনন কাজের অন্যতম টেন এক্স কুপ। প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই শুরু হওয়া খনন কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ৩ হাজার ৩৪০ মিটার খননের পর এখানে ওয়েল টেস্টিংয়ে যে চাপ মিলেছে, তাতে এখান থেকে প্রতিদিন ৮-৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা যাবে। সাথে ১৯ ব্যারেল কনডেন্ট সেটও। একইভাবে নতুন কুপ রশিদপুর ১৩, সিলেট ১১, ঢুপিটিলা ১ ও কৈলাশটিলা ৯ এর কূপখননের কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, ‘এ অর্থবছরে আমার লাইনে একটি কূপ যুক্ত হতে পারে। সিলেট-১০ ছাড়াও নতুন আরেকটি কূপ যুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আমাদের আরও ৩টি কূপ যুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে।’
তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাহিদা অনুসারে যোগান বৃদ্ধিতে এসব প্রকল্পের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা করতে হবে। এ জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধিসহ অনুসন্ধান ও উত্তোলন প্রক্রিয়ায় জোর দেয়ার তাগিদ তাদের।
শাবিপ্রবি পেট্রোলিয়াম এবং মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগগের অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অর্থনীতি যদি আমরা বিশ্লেষণ করি, সেক্ষেত্রে আমি মনে করি সরকার থেকে অনেক রেস্ট্রিকশন আসছে সিলেট গ্যাসফিল্ডের ওপরে। যেন এক্সপেক্ট করছে সে তুলনায় কাজ করতে পারছে না।’
শাবিপ্রবি পেট্রোলিয়াম এবং মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ বিভাগীয় প্রধান ড. মো. ফরহাদ হাওলাদার বলেন, ‘আমাদেরর টেকনোলজিতে ডেভেলপমেন্ট করতে হবে। পর্যাপ্ত মানি সাপ্লাই থাকতে হবে। দক্ষ লোক সেখানে রাখতে হবে।’





