Recent event

কর্তৃপক্ষের নানাবিধ ‘অব্যবস্থাপনায়’ চট্টগ্রাম বন্দরে কমছে না নিলাম পণ্যের জট!

চট্টগ্রাম বন্দরে রাখা পণ্যবোঝাই কন্টেইনারের ছবি
চট্টগ্রাম বন্দরে রাখা পণ্যবোঝাই কন্টেইনারের ছবি | ছবি: এখন টিভি
0

বিশেষ নিলামে পণ্য বিক্রিতে ব্যাপক সাড়া পেলেও সর্বোচ্চ দরদাতার তালিকা প্রকাশ ও অনুমোদনে দেরির কারণে লোকসানের আশঙ্কায় পণ্য ডেলিভারি নিচ্ছে না অনেক বিডার। এতে বার বার নিলাম আয়োজনের চক্রেই ঘুরপাক খাচ্ছে চট্টগ্রাম কাস্টম কর্তৃপক্ষ। ফলে বন্দরে কাঙ্ক্ষিত হারে কমছে না নিলাম পণ্যের জট।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) স্থায়ী ও বিশেষ আদেশ অনুসারে বর্তমানে নিলাম করছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। স্থায়ী আদেশে প্রথম নিলামে পণ্যের ভিত্তিমূল্যের ৬০ শতাংশ দরে বিক্রির বাধ্যবাধকতা থাকায় ৬০ শতাংশ দর না উঠলে করতে হয় একাধিক নিলাম । চট্টগ্রাম বন্দরে বছরের পর বছর পড়ে থাকা পণ্যের জট কমাতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পুরানো পণ্য নিলামে দ্রুত বিক্রির জন্য গেলো বছরের ১৪ মে বিশেষ আদেশে জারি করে এনবিআর।

এতে প্রথম নিলামে কোনো ভিত্তিমূল্য ছাড়া সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে পণ্য বিক্রির বিধান করায় নিলামে গতি আসে। সারা দেশ থেকে বিডাররা অনলাইনে নিলামে অংশ নিলেও একটা বড় অংশই যথাসময়ে পণ্য ডেলিভারি না নেয়ায় জামানতের টাকা খোয়ান।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলাম শাখার সহকারী কমিশনার রাসেল আহমেদ বলেন, ‘নিলাম কার্যক্রমে একটা দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়, বিডার যদি প্রথম নিলামে নিয়ে নিতে, তাহলে কিন্তু আমাদের ওটা পুনরায় নিলাম দিতে হতো না। এখন এই অকশন সম্পন্ন করতে কমপক্ষে দেড় থেকে দুই মাস বিভিন্ন কার্যক্রম শেষ করতে সময় লাগে। দ্বিতীয় একটা সমস্যা বা আশঙ্কা যেটা, তা হলো—প্রথম অকশনে যে দাম পাওয়া গেছে দ্বিতীয় নিলামে এই পরিমাণ দর নাও উঠতে পারে।’

আরও পড়ুন:

প্রশ্ন ওঠে জামানতের টাকা হারালেও কেন পণ্য ডেলিভারি নিতে অনীহা। বিডারদের অভিযোগ বেশিরভাগ সময় পণ্য দেখার সুযোগ হয় না। ফলে অনুমানের উপর ভিত্তি করে অনেকে বেশি দর অফার করে বড় ধরনের লোকসান পড়ে। আছে অনুমোদন সংক্রান্ত জটিলতাও।

চট্টগ্রাম কাস্টমস নিলাম ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াকুব চৌধুরী বলেন, ‘সময় যখন আমি পাচ্ছি, আপনিও সময় ক্ষেপণ করছেন, বাস্তবতা যখন এমন হয় এবং দেখি মালের সাথে সেটা মিলছে না কি আর করার! মালটা যদি আমি যথাসময়ে পাইতাম, তুললে যে টাকাটা লোকসান হতো, এখন দেরি হওয়ায় তার দ্বিগুণ লোকসান হবে।’

নিলাম শাখার সহকারী কমিশনার রাসেল বলেন, ‘প্রচুর পরিমাণে নিলামের জন্য কনটেইনার ছিল, যেটা ডিসপোজ করার জন্য এনবিআর থেকে আমাদের বিশেষ আদেশ করে দেয়া হয়েছে এবং সেই সেই আদেশ মোতাবেক আমাদের প্রতি মাসে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কনটেইনার নিলাম দিচ্ছি। তো তার ভেতরে একটি বড় অংশই বিক্রয় করতে পারছি, কিন্তু বিক্রয় করার পরও দেখা যায় বিডাররা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ডেলিভারি নিচ্ছেন না। ফলে যে লটগুলো ডেলিভারি নেয়া হয় না, সেগুলো আমাদের পুনরায় নিলামে তুলতে হয়।’

২০২৫ সালে নিলাম থেকে ১২৭ কোটি টাকা ৬৬ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। আর চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দুমাসে রাজস্ব আসে ৬৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এখনো বন্দরে নিলামের কনটেইনার আছে প্রায় ১০ হাজার।

এসএইচ