গতকাল (বুধবার, ৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ (Foreign Exchange Policy Department - FEPD) এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
আরও পড়ুন:
এনডোর্সমেন্ট প্রক্রিয়ায় নতুন নিয়ম (New Rules in Endorsement Process)
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জাররা বিদেশগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের বার্ষিক ভ্রমণ কোটার (Annual Travel Quota) বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রা, নোট, কয়েন ও ট্রাভেলার্স চেক (Travelers Cheque - TC) বিক্রি করতে পারে। প্রতিটি বিক্রির তথ্য সংশ্লিষ্ট যাত্রীর পাসপোর্ট ও বিমান টিকিটে (Air Ticket) যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ বা এনডোর্সমেন্ট করা এবং মানি চেঞ্জারের অনুমোদিত ব্যক্তির সিল ও স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক।
গ্রাহক হয়রানি বন্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর অবস্থান (Strict Measures Against Customer Harassment)
গ্রাহকদের কাছ থেকে খেয়ালখুশিমতো অতিরিক্ত চার্জ আদায় বন্ধ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কয়েকটি বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে:
সর্বোচ্চ ফি ৩০০ টাকা: বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ (Amount of Foreign Currency) কম বা বেশি যা-ই হোক না কেন, এনডোর্সমেন্ট ফি হিসেবে ৩০০ টাকার বেশি আদায় করা যাবে না।
তালিকা প্রদর্শন: প্রতিটি মানি চেঞ্জারকে তাদের প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান স্থানে এই ফির চার্ট বা তালিকা (Fee Chart Display) ঝুলিয়ে রাখতে হবে।
মানি রসিদ প্রদান: গ্রাহকের কাছ থেকে ফি সংগ্রহের পর অবশ্যই তাকে একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত রসিদ (Money Receipt) দিতে হবে।
হিসাব সংরক্ষণ: অডিট বা নিরীক্ষার প্রয়োজনে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে এই ফির সঠিক হিসাব এবং নথিপত্র সংরক্ষণ করতে হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের মে মাসে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকেও (Commercial Banks) পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট ফি সংক্রান্ত একই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এখন থেকে মানি চেঞ্জারদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর হবে।
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ নীতিমালা অনুযায়ী, একজন বাংলাদেশি নাগরিক প্রতি ক্যালেন্ডার বছরে (১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর) বিদেশে যাওয়ার জন্য যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সঙ্গে নিতে পারেন, তাকেই ভ্রমণ কোটা বা ট্রাভেল কোটা (Travel Quota) বলা হয়।
২০২৬ সালের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ট্রাভেল কোটার সীমা নিচে দেওয়া হলো:
১. সাধারণ ভ্রমণ কোটা (General Travel Quota)
বার্ষিক সীমা: একজন প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিক বছরে সর্বোচ্চ ১২,০০০ মার্কিন ডলার (12,000 USD) বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্স করতে পারবেন।
অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য: ১২ বছরের কম বয়সী যাত্রীদের জন্য এই সীমা অর্ধেক, অর্থাৎ সর্বোচ্চ ৬,০০০ মার্কিন ডলার (6,000 USD)।
২. সার্কভুক্ত ও অন্যান্য দেশ (SAARC & Other Countries)
বর্তমানে সার্কভুক্ত দেশ (যেমন- ভারত, নেপাল, ভুটান ইত্যাদি) এবং অন্যান্য দেশের জন্য আলাদা কোনো ভাগ নেই। মোট ১২,০০০ ডলারের কোটা আপনি একবারে বা একাধিকবার ভ্রমণের মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারবেন।
আরও পড়ুন:
৩. নগদ ডলার বা ক্যাশ সীমা (Cash Limit)
আপনি ১২,০০০ ডলার এনডোর্স করলেও নগদ (Cash) হিসেবে একবারে সর্বোচ্চ ৫,০০০ মার্কিন ডলার (5,000 USD) সঙ্গে বহন করতে পারবেন। বাকি অর্থ কার্ডে (International Credit/Debit Card) বা ট্রাভেলার্স চেকে নিতে হবে।
৪. বিশেষ কোটা (Special Quotas)
চিকিৎসা ভ্রমণ (Medical Treatment): চিকিৎসার জন্য গেলে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ও প্রাক্কলিত খরচ দেখিয়ে অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা নেওয়ার আবেদন করা যায়।
শিক্ষা কোটা (Education Quota): বিদেশে পড়াশোনার জন্য স্টুডেন্ট ফাইলের মাধ্যমে টিউশন ফি ও লিভিং কস্ট পাঠানো যায়, যা ভ্রমণ কোটার বাইরে।
ব্যবসায়িক ভ্রমণ (Business Travel): আমদানিকারক বা রপ্তানিকারকগণ তাদের ব্যবসায়িক প্রয়োজনে আলাদা এনটাইটেলমেন্ট ভোগ করেন।
আরও পড়ুন:





