আন্তঃদেশীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে প্রায় দেড় বছর উদ্বোধন হয় আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ। তবে তখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি অবকাঠামোগত কাজ। সবশেষ গেল অক্টোবরে নির্মাণ কাজ শেষ হলেও কোনো কাজে আসছে না ১২ দশমিক দুই চার কিলোমিটারের এই রেলপথটি।
এরই মধ্যে আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেলপথে পণ্য আমদানি-রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। তবে ভারতের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনে রেলপথ চালুতে বিলম্ব হচ্ছে। অন্যদিকে চলমান পরিস্থিতিতে রেলপথটির বাংলাদেশের ৬ দশমিক ৭৮ কিলোমিটার অংশ সরকারকে বুঝিয়ে দিতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।
এ অবস্থায় দ্রুত এ রেলপথে পণ্য বাণিজ্য শুরু করতে চান ব্যবসায়ীরা। জানান, রেলে সাশ্রয়ী খরচে পণ্য আনতে পারলে ভোক্তারাও সুফল পাবেন তারা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আশরাফুল আলম মাহফুজ বলেন, ‘পণ্য-সামগ্রী যদি আমরা রেলের মাধ্যমে আনতে পারি। এতে ভোক্তারা সুবিধা পাবে। উদাহরণস্বরূপ স্থলবন্দরের যা পাঁচ টাকা পরবে তা রেলের মাধ্যমে আনতে পরবে মাত্র চার টাকা। দুই বছর আগেই এটি চালু হওয়ার কথা ছিল। এটি চালু হলে দুই দেশই লাভবান হবে। আমরা চাই সকল জটিলতা দূর করে দ্রুত এটি চালু করা হোক।’
আর দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বুঝে নেয়ার কথা জানান জেলা প্রশাসক।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, ‘এখন এটি হ্যান্ডওভার করার পর্যায়ে আছে কার্যক্রম পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে। এটা তারা আন্তর্জাতিকভাবে বসে সিদ্ধান্ত নেবে। বর্ডার রেলওয়ের বড় একটা ফাংশন হবে এখানে যদিও রাস্তাটা আপাতত ছয় কিলোমিটার তবে বাণিজ্যে এখানে একটা বড় ভূমিকা রয়েছে।’
আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেলপথের নির্মাণ শুরু হয় ২০১৮ সালের জুলাইয়ে। নানা সংকটে বিলম্বিত হয় প্রকল্পের কাজ। বাংলাদেশ অংশের রেলপথ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২৪১ কোটি টাকা।