অর্থনীতি
আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৬ শতাংশ: এডিবি
আগামী অর্থবছরে (২০২৪-২৫) বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৬.৬ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছে ম্যানিলাভিত্তিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। আর চলতি অর্থবছরে রপ্তানির ওপর নির্ভর করে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬.১ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

এডিবি বলছে, বৈশ্বিক চাহিদা কম হওয়া সত্ত্বেও ডলার সংকটের কারণে রপ্তানিকারকরা স্থানীয় সুতা ও কাপড় ব্যবহার করায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।

২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত ৫.৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির তুলনায় চলতি ২০২৪ সালের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এটি বেশি। যদিও তা ২০২২ সালের ৭.১ শতাংশের তুলনায় কম। 

সংস্থাটি বলছে, চলতি অর্থবছরে (২০২৩-২৪) গড় মূল্যস্ফীতি ৮.৪ শতাংশে নেমে আসবে এবং বেসরকারি পর্যায়ে ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। এডিবির তথ্য অনুযায়ী, গেল ২০২৩ সালে সর্বশেষ মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ শতাংশ।

চলতি বছর ভারতের ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির পর দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। যেখানে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপ রয়েছে বাংলাদেশে নিচে। চলতি বছর পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১.৯ শতাংশ হবে বলে এডিবির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। যা এডিবির দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তালিকার সর্বনিম্ন।

এডিবির সর্বশেষ এই পূর্বাভাসের কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জানিয়েছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্ধেক হয়ে ৩.৭৮ শতাংশে নেমে এসেছে। এটি তিন ত্রৈমাসিকের মধ্যে সবচেয়ে কম। কারণ অভ্যন্তরীণ খরচ কমে যাওয়ায় উৎপাদন প্রবৃদ্ধি দ্রুত কমেছে। ওই ত্রৈমাসিকে পরিষেবা খাতের প্রবৃদ্ধিও অর্ধেকে নেমে এসেছে।

চলতি মাসের শুরুতে বিশ্বব্যাংক বলেছিল, দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বেসরকারি ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় প্রবৃদ্ধি কমবে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৫.৬ শতাংশ। যা কোভিডের আগের দশকের প্রবৃদ্ধির হার ৬.৬ শতাংশের চেয়ে কম।

এছাড়া আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫.৭ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

ইএ