সড়ক কার্পেটিংয়ের দুইদিন পর হাতের টানে ওঠে আসছে পিচ। ঝরে পড়ছে সহজেই। সড়কের এমন হাল দেখে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ স্থানীয়দের।
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর থেকে মহাশয়ের বাজার সড়ক। এক কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক সংস্কারের কাজ পায় শায়েস্তাগঞ্জের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সাহদাত আলী ট্রেডার্স। কিন্তু শুরু থেকে কাজে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন স্থানীয়রা।
চলতি মাসের ১৮ তারিখ ৫০০ মিটার সড়ক কার্পেটিংয়ের কাজ করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। তবে এমন নিম্নমানের কাজ দেখে গত বুধবার কাজ বন্ধ করে দেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘হাত দিয়ে ধরলে তো রাস্তার পিচ ওঠার কথা নয়, রাস্তার কাজ ঠিক করে করে হয়নি বলেই এরকম হচ্ছে।’
আরেকজন বলেন, ‘কাজে অনিয়ম হয়েছে সেটা বুঝেছি, যখন দেখলাম যে একদিনেই প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তার কাজ শেষ করেছে।’
কাজে অনিয়ম মানতে নারাজ উপজেলা প্রকৌশলী। যদিও অভিযোগের ভিত্তিতে বিটুমিনের মান পরীক্ষার জন্য ল্যাব টেস্টে পাঠানোর কথা জানান তিনি।
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা প্রকৌশলী মফিজুর রহমান বলেন, ‘কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। কাজ তো মাত্র শুরু হয়েছিল। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা আপাতত কাজটি বন্ধ রেখেছি। এই বিষয়ে আমরা নির্বাহী অফিসেও জানিয়েছি।’
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বলছে, শুরু থেকেই একটি চক্র কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। কার্পেটিংয়ের পর কিছু অংশে কেরোসিন বা মেডিসিন প্রয়োগ করে পিচ গলিয়ে দেয়া হয়েছে বলে দাবি তার।
সাহদাত আলী ট্রেডার্সের ম্যানেজার বাহাদুর হোসেন বলেন, ‘কেউ ষড়যন্ত্র করে রাতের বেলা কেরোসিন বা ডিজেল দিয়েছে এখানের পিচ নরম করার জন্য। শুরু থেকেই অনেকেই এটার বিরোধিতা করছে।’
প্রায় চার কিলোমিটার সড়কের ২৬০ মিটার আরসিসি ঢালাই এবং বাকি অংশ করা হচ্ছে পিচ ঢালাই।