ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা এ সময় বাড়ির নারীদের বেধড়ক মারধর করে আহত করে নগদ টাকা, স্বর্ণের গয়নাসহ মূল্যবান মালামাল লুটপাট করে নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে সুধারাম থানার পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যায়।
কিন্তু তার আগেই সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে।
গৃহকর্তা নুরুল আফছার খান সুমন বলেন, 'শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে চারটি মাইক্রোবাসযোগে ২৫ থেকে ৩০ জনের একদল সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তার বাড়ির সামনে আসে। এরপর তারা বাড়ির প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ, ইন্টারনেট লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এরপর তারা বাড়ির একতলা পাকা ভবনের ভেতরে ঢুকে নারীদের এলোপাতাড়ি মারধর করে প্রতিটি কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে পুরো বাড়ি লণ্ডভণ্ড করে ফেলে।'
নুরুল আফছার জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তার স্ত্রী ঘটনার শুরুতে তাকে মুঠোফোনে ঘটনা শুধু জানিয়েছেন। এরপর তিনি অনেকবার চেষ্টা করেও ফোনের সংযোগ পাননি। বাড়ির সিসিটিভির ক্যামেরাসহ অন্যান্য সামগ্রী, মূল্যবান জিনিসপত্র, নগদ টাকা, স্বর্ণের গয়নাসহ সবকিছু লুট করে নিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা। হামলা-ভাঙচুর চলাকালেই বিষয়টি থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়। কিন্তু পুলিশ পৌঁছার আগে সন্ত্রাসীরা তাণ্ডবলীলা শেষ করে পালিয়ে যায়।
জানা যায়, একই উপজেলার বাসিন্দা আলমগীর নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে চার শতাংশ জায়গা কিনে কয়েক বছর আগে একটি একতলা বাড়ি নির্মাণ করেন। কিছুদিন আগে ওই ব্যক্তি জায়গার মূল্য কম হয়েছে দাবি করে ২০ লাখ টাকা দাবি করে। তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করায় সন্ত্রাসী ভাড়া করে ওই হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য আলমগীরের যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার মুঠোফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি। তাই এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, 'জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে একপক্ষ লোকজন ভাড়া করে ওই বাড়ি দখল করতে যায় এবং হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। ঘটনার খবর পেয়ে থানা পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে হামলা-ভাঙচুরের সত্যতা পাওয়া গেছে।'
ওসি জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া মূল অভিযুক্ত আলমগীরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আলমগীরের বিরুদ্ধে পূর্বের একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় ১৬ মাস কারাগারে থাকার পর কয়েকদিন আগে জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। আজকের ঘটনার বিষয়ে থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।