কালন্দি খাল হয়ে আসছে ত্রিপুরার কেমিক্যাল মিশ্রিত পানি, বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি

এখন জনপদে
0

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে কালন্দি খাল হয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ত্রিপুরা থেকে আসছে কেমিক্যাল মিশ্রিত কালো পানি। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা রয়েছেন যেমন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জীব বৈচিত্র্য। বারবার অভিযোগের পরও মেলেনি কোনো প্রতিকার।

ভারতের ত্রিপুরা থেকে প্রবাহিত কালন্দি খাল। আখাউড়া স্থলবন্দরের পাশ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা এই খাল দিয়ে আসছে কেমিক্যাল যুক্ত কালো পানি। যার তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা।

মূলত ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার, বিভিন্ন হাসপাতাল, শিল্প-কারখানা ও বাসাবাড়ির সুয়ারেজ লাইনসহ বর্জ্য পরিশোধন না করেই ফেলা হচ্ছে পানিতে। যা মিশছে সীমান্তবর্তী জলাশয় ও নদীতে। একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে জীব বৈচিত্র্য, অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়ছে রোগ-জীবাণু।

দূষণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে আখাউড়া স্থলবন্দর সংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দারা। বিষাক্ত কালো পানিতে বাড়ছে চর্মরোগ, নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমির উর্বরতা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করেও মেলেনি প্রতিকার।

পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় দ্রুত এই সমস্যার সমাধানে কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি পানি পরিশোধনের দাবি জানিয়েছে নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষা সংগঠনগুলো।

তরী বাংলাদেশের আহ্বায়ক মো. শামীম আহমেদ বলেন, ‘নিজেদের স্বার্থে হলেও বাংলাদেশের উচিত নিজেদের সীমান্তের ভেতরে পরিশোধনের ব্যবস্থা করে পানিটাকে বিশুদ্ধ করে আমাদের খালে ছাড়া হয়। তাহলে কিন্তু আমাদের তিতাস নদী এবং আশেপাশের মানুষ বেঁচে যাবে।’

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে জোরালো আলোচনা চলছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলছেন, খালে পানি ছাড়ার আগে ন্যূনতম পরিশোধন নিশ্চিত করার বিষয়ে ব্যবস্থার নেয়ার চেষ্টা চলছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, এটা তো আসলে জেলার কাজ না। এটা ইন্টারন্যাশনাল ফাংশন। যতটুক জানি এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। খুব দ্রুত যাতে এটা সমাধান করা যায় আমরা সে চেষ্টা চালাচ্ছি।’

ত্রিপুরা থেকে আসা কালো পানি আখাউড়া স্থলবন্দর হয়ে তিতাস নদীতে গিয়ে মিশেছে।

এএইচ