জমি সরকারের কিন্তু স্থাপনা ব্যক্তির! এমন চিত্র শরীয়তপুর শহরের প্রধান সড়কের দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে।
পাকা, আধা পাকা সুউচ্চ ভবন কি নেই সড়ক বিভাগের এই জমিতে? ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এমনকি সরকারি দপ্তরগুলোও বাদ যায়নি এ দৌড়ে! সিভিল সার্জনের কার্যালয়, জেলা পরিষদ, বিদ্যুৎ বিভাগ, পৌরসভা, জেলা কমাড্যান্টের কার্যালয় সড়কের জমি দখল করে দিব্যি গড়ে তুলেছেন স্থাপনা।
সময়ে-অসময়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও বাদ যায়নি এই তালিকা থেকে। ৬০ থেকে ৭০ ফুট চওড়া জমির ২৪ ফুট সড়ক নির্মাণের পর বাকি জমি চলে গেছে দখলদারদের জিম্মায়। বেদখল জমি উদ্ধারে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন সড়ক বিভাগ তবে সেখানেও বিধিবাম! দখলদাররাও নাছোড়বান্দা, ছাড়বেন না এসব জমি কিন্তু আইন কী বলে?
শরীয়তপুর জজ কোটের জিপি শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘একজন বেদখল করতে পারে তবে তা প্রশাসনিক অর্ডারে করতে হবে কিন্তু যদি কেউ কেউ নিজ নামে রেকর্ড করে থাকলে এখানে বলা দরকার সম্পত্তির রেকর্ড দেয়ার কিন্তু এখতিয়ার কারো নাই। হয় যারা করেছে তারা গোপনে করেছে বা কোনো যোগসাজশের করেছে। তাদের শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।’
শরীয়তপুর শহরের রাজগঞ্জ পয়েন্ট। সকাল থেকেই শহরমুখী যানবাহন। ধীরে ধীরে চলছে যানবাহন। দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের সারি। এর মাঝেই সড়কের পাশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে শহরবাসী। যানবাহন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম অবস্থা ট্র্যাফিক বিভাগেরও। দ্রুত সময়ে দখলমুক্ত করে সড়ক বাড়ানো আর ফুটপাত নির্মাণেরও দাবি শহরবাসীর।
অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সড়ক সম্প্রসারণ করা গেলে যানজট নিরসন হবে, বলছেন সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী। আর দখলদারদের উচ্ছেদে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
শরীয়তপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাবিল হোসেন বলেন, ‘অবৈধ স্থাপনা থাকার ফলে আমাদের সড়ক যেহেতু সংকুচিত হয়ে গেছে তাই অবৈধ স্থাপনা সরানোর পরে আমাদের পাশে জায়গা হবে। এটা যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’
শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘এগুলো আদালতে বিষয় যা বিচারাধীন রয়েছে। তাই আদালতের রায় পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। অন্যান্য স্থাপনা ও জায়গা যা অবৈধভাবে দখলে আছে সেগুলোর বিষয়ে আমরা অনতিবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
সড়ক নির্মাণে ১৯৮৬-৮৭ সালে সড়ক বিভাগ শহরের তিনটি মৌজার ১২ একর জমি জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার মাধ্যমে অধিগ্রহণ করে।