জামালপুরে গৃহবধূ হত্যা: নেপথ্যে পরকীয়া ও ভিডিও ফাঁদ

গ্রেপ্তার হওয়অ আসামি, নিহত মিম্মি
গ্রেপ্তার হওয়অ আসামি, নিহত মিম্মি | ছবি: এখন টিভি
0

জামালপুরে ‘স্বামীর হাতে স্ত্রী খুনের’ ঘটনার তদন্ত শেষ করেছে জামালপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত ২৩ আগস্টের এ ঘটনার তদন্তে বেরিয়ে আসে নিহত ইসরাত জাহান মিম্মি ও কাওসার আহমেদ শাওন সর্ম্পকে স্বামী-স্ত্রী ছিলেন না। বরং তাদের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ার সর্ম্পক ছিলো।

আজ (মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট) দুপুরে শহরের বাগেরহাটা এলাকায় পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পিবিআই জামালপুরে পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।

পিবিআই জানায়, গত শনিবার (২৩ আগস্ট) সকাল ১০ টার দিকে জামালপুর শহরের পাঁচরাস্তা মোড় এলাকার কলাবাগান গলিতে বাবুল মিয়া বিল্ডিংয়ের পঞ্চম তলার ইশরাত জাহান মিম্মি নামের এক মহিলার মরদেহ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, নিহত ইশরাত জাহান মিম্মি ও কাউসার আহমেদ খান স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। তাদের ঘরে দু’টি সন্তান আছে। এরপর নিহতের মা মুক্তা বেগম কাউসার আহমেদ খানসহ অজ্ঞাত দু’জনের বিরুদ্ধে জামালপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটির তদন্ত শুরু করে পিবিআই।

তদন্তে জানা যায়, ২০১৪ সালে ইশরাত জাহান মিম্মির সঙ্গে শাওন নামের এক ব্যক্তির বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে একজন মেয়ে ও একজন ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। নিহতের স্বামী শাওন ২০২১ সালে মারা গেলে নিহত ইশরাত জাহান মিম্মিতার দুই সন্তানদের নিয়ে জামালপুর শহরে বসবাস করতে থাকে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রায় তিন বছর আগে আসামি কাউসার আহমেদ খানের ‘রাফি স্টোর’ নামক মনোহারি দোকানে কেনাকাটা করার সুবাদে নিহত নারী মিম্মির পরিচয় হয়।

নিহত নারীর স্বামী কাতারে আছে বলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিয়মিত আসামি কাউসার আহমেদ খানের দোকানে গিয়ে নগদ ও বাকিতে কেনাকাটা করতো। একসময় মিম্মি দোকানের বকেয়া টাকা পরিশোধ করার জন্য আসামি কাউসারকে তার বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। আসামি কাউসার মিম্মি বাসায় গেলে মিম্মি পরিকল্পিতভাবে আসামি কাউসারকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে এবং বলে তার স্বামী কিছুদিন আগে মারা গেছে।

আরও পড়ুন:

ওই দিনই মিম্মির অনৈতিক প্রলোভনে আসামি কাউসার তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। শারীরিক সর্ম্পকের বিষয়টি মিম্মি পরিকল্পিতভাবে গোপনে ভিডিও ধারণ করে রাখে। পরবর্তীতে মিম্মি আসামি কাউসারকে ধারাবাহিকভাবে ব্ল্যাক মেইল করে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করতে থাকে এবং আসামির অর্থে উচ্চাভিলাষী জীবনযাপন শুরু করে।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, নিহত মিম্মি নিজেও ইয়াবা সেবন করতো, একইসঙ্গে তিনি আসামি কাউসারকে ইয়াবা সেবনে আসক্ত করে আসামির পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করার অপচেষ্টা করতে থাকে। এভাবে আসামি কাউসার তার সঞ্চিত অর্থ শেষ করার পর সে জামালপুর শহরে বাড়ির জমি বিক্রিসহ মা ও স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বিক্রির অর্থ মিম্মির পিছনে ব্যয় করে। এছাড়াও মিম্মি ব্ল্যাকমেইল করার জন্য বিভিন্ন লোকজনদেরকে টার্গেট করতো এবং আসামিকে সেসব লোকজনদের ফাঁদে ফেলে বাসায় নিয়ে আসতে চাপ প্রয়োগ করতো। আসামি এই কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে মিম্মি ও আসামির মধ্যে সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন মিম্মি কাউসারকে ফোন করে তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যায় এবং আসামি কাউসারের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

একপর্যায়ে মিম্মি কাউসারের স্ত্রীকে ফোন দিয়ে তাদের অবৈধ সর্ম্পকের কথা জানিয়ে দেয় এবং কাউসার তার সঙ্গেই আছে বলে কাউসারের সঙ্গে তার স্ত্রীকে কথা বলিয়ে দিতে গেলে কাউসার কথা বলতে না চাওয়ায় তাদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে কাউসার নিহত ইশরাত জাহান মিম্মির গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

এরপর পিবিআই তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় কাউসার আহমেদ খানকে গতকাল (সোমবার, ২৪ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জামালপুর শহরের বাগেরহাটা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।

এসএস