গতকাল (রোববার, ২৩ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে টঙ্গীর বনমালা রোড এলাকায় বঙ্গ সি-ফুড নামের ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সালেহুর রহমানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, কারখানাটিতে শিশুদের জন্য বিভিন্ন ধরনের খাদ্য ও পানীয় উৎপাদন করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে কর্মকর্তারা ‘ম্যাংগো ফ্রুট ড্রিংক’ উৎপাদন ফ্লোরে গেলে একটি মেশিনের নিচে কোনো ধরনের মোড়ক বা চিহ্ন ছাড়া একটি বোতল পড়ে থাকতে দেখেন। প্রথমে বোতলটিতে উৎপাদনসংশ্লিষ্ট কোনো তরল থাকতে পারে বলে ধারণা করা হলেও পরে সেটিতে মূত্র পাওয়া যায় বলে অভিযান পরিচালনাকারীরা জানান।
শিশুদের খাদ্য ও পানীয় উৎপাদনের স্থানে এমন বোতল পাওয়ার ঘটনায় কর্মকর্তারা বিস্ময় প্রকাশ করেন। তবে বোতলটি সেখানে রাখার দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, কেউ পরিকল্পিতভাবে বোতলটি সেখানে রেখে যেতে পারে। এমনকি অভিযান পরিচালনাকারী দলের কোনো সদস্যও সেটি রেখে থাকতে পারেন বলে প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন। তবে এ দাবির পক্ষে তাৎক্ষণিক কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন:
অভিযানে কারখানাটির অন্যান্য কার্যক্রমও পরিদর্শন করা হয়। এসময় প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ দুই মাস আগে শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। পাশাপাশি একটি পণ্যের রপ্তানি লাইসেন্স থাকলেও সেটি দেশের বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে ভুল মোড়কে প্যাকেটজাত করার অভিযোগও পাওয়া যায়।
গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সালেহুর রহমান বলেন, ‘খাদ্যপণ্য উৎপাদনের পরিবেশসহ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করা হয়েছে। একটি পণ্যের রপ্তানির লাইসেন্স থাকলেও সেটি দেশের বাজারে বিক্রির জন্য মোড়কজাত করা হচ্ছিল। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদও দুই মাস আগে শেষ হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘খাদ্যপণ্য মজুদ ও বোতলজাত করার ফ্লোরে একটি বোতলে মূত্র পাওয়া গেছে। এসব অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে প্রতিষ্ঠানটিকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’




