স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় ওই বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী বাড়িতে একাই ছিল। এই সুযোগে প্রতিবেশী মৃত তায়জাল খাঁর ছেলে মহব্বত আলী খাঁ (৪৫) ঘরে প্রবেশ করে এবং কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এসময় কিশোরীর গোঙানি ও চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে মহব্বত আলীকে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরে ফেলে।
ঘটনাটি পুলিশকে জানানোর পরিবর্তে রোববার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় স্থানীয় প্রভাবশালীদের উপস্থিতিতে তড়িঘড়ি করে একটি গ্রাম্য সালিশ ডাকা হয়। গৌড়ীগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব প্রামাণিকের সভাপতিত্বে এবং নাসির খানের আহ্বানে সালিশি বৈঠক বসে।
ভুক্তভোগী কিশোরীর ভাবী মরিয়ম খাতুন অভিযোগ করেন, ‘নাসির খানের ডাকে চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাবের সভাপতিত্বে সালিশ বসে। সেখানে ১ নং ওয়ার্ডের জামায়াতের আমির বাবু মোল্লা, সাবেক মেম্বার আ. মালেক, আরশেদ আলম ও খোরশেদ আলম উপস্থিত ছিলেন। সালিশের মাতব্বরেরা মহব্বত আলীকে মাত্র ২০টি জুতার বাড়ির রায় ঘোষণা করেন এবং তা কার্যকর করেন। আমাদের কোনো কথা বলার সুযোগই দেয়া হয়নি। আমরা এ রায় মানি না।’
আরও পড়ুন:
সালিশে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করে গৌরিগ্রাম ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের জামায়াতের আমির বাবু মোল্লা বলেন, ‘বিচার করেছে মেম্বার-চেয়ারম্যান। আমি শুধু রায় বোর্ডে গিয়েছিলাম। প্রথমে মহব্বত আলীকে ৭টা জুতার বাড়ি ও গলায় কাদা লেপে সারা এলাকা ঘুরানোর কথা ছিল। কিন্তু আমি বলেছি এটা না করে ২০টা জুতার বাড়ি দেন। জুতার বাড়ি দিয়ে দুই পক্ষের স্বাক্ষর (আপসনামা) নিয়ে রাখা হয়েছে।’
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব প্রামানিক সালিশের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘সালিশে আমাকে ডেকে নেয়া হয়েছিল। ওরাই বিচার করেছে। বিচারে রায় হয়েছে ২০টা জুতার বাড়ি দেয়ার। আমার পরিষদের গ্রাম পুলিশ দিয়ে সেই জুতার বাড়ি কার্যকর করা হয়। তবে এই বিচার নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে আমি নিজেই বাদীপক্ষকে আইনের আশ্রয় নিতে বলেছি।’
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, সালিশি বৈঠকের বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ভুক্তভোগী কিশোরীর বড় ভাই এরশাদ আলী বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আজকেই মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করা হবে। আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে।

 Andoni Iraola, Ryan Mason, and Xabi Alonso-320x167.webp)



