গাজীপুরে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে প্রতারণার চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৩

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি | ছবি: সংগৃহীত
0

গাজীপুরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বড় কর্মকর্তা পরিচয়ে জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে ৬৫ কোটি টাকা ঋণের সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টাকালে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বুধবার (১ এপ্রিল) জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে দুইজন ও ঢাকার গুলিস্তান থেকে অপরজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী গোলাম রসুল বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার পূর্ব দেউলি গ্রামের মৃত তোফায়েল আহমেদের ছেলে মো. মোর্শেদ আলম (৪৫), কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার মো. ফরিদ উদ্দিনের ছেলে মো. নজরুল ইসলাম (৪৮) ও বগুড়া সদরের মালতীনগর এলাকার মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে মো. সাব্বির আলী (৪৫)। মামলার অপর দুই আসামি হলেন- রংপুরের কাউনিয়া থানার আব্দুল মালেকের ছেলে মো. মাহিদুল মাইদুল ইসলাম (৪০) ও ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানার কাচিয়া এলাকার মো. আমির হোসেনের ছেলে মো. মাজহার উদ্দিন মাজেদ (৩০)।

মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে জেলা প্রশাসকের অফিস কক্ষে মো. মোর্শেদ আলম ও মো. নজরুল ইসলাম নামে দুই ব্যক্তি প্রবেশ করেন। তারা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পরিচয় দিয়ে তাদের টাইপকৃত নাম-ঠিকানা ও স্বাক্ষরবিহীন দুই কপি সম্মতিপত্র উপস্থাপন করেন।

সম্মতিপত্রে লেখা ছিলো ‘সে আপনার প্রতিষ্ঠান থেকে ২৮ মার্চ তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ৬৫ (পঁয়ষট্টি কোটি) টাকা ঋণ গ্রহণ করবে এবং যার সার্ভিস চার্জ ১০ কোটি টাকা। মোট পঁচাত্তর কোটি টাকা ঋণগ্রহণ করবে, যার বিপরীতে ১৮ মাসে কাজের মাধ্যমে সর্বমোট একশ পঞ্চাশ কোটি টাকা প্রদান করবে। তার সমস্ত দায়দায়িত্ব গ্রহণ করতে সম্মত প্রদান করলাম। ঋণ চুক্তিপত্র স্বাক্ষরের সময় যা ঋণ চুক্তিপত্রের মেয়াদের সময়ের মধ্যে আপনার প্রতিষ্ঠানের সুবিধামতো ক্যাশ কিংবা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পরিশোধ করতে সে বাধ্য থাকবে।

আরও পড়ুন:

চুক্তিপত্রে আরও লিখা ছিলো, আমি আরও প্রত্যয়ন করছি যে, ঋণ চুক্তিপত্রে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে সে সমুদয় অর্থ পরিশোধের ব্যাপারে ঋণ প্রদানকারী ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানকে পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা করবে এবং আমি প্রয়োজনীয় কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক তাদের প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে মো. মোর্শেদ আলম ও মো. নজরুল ইসলামকে আটক করেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানায়, জনৈক মো. সাব্বির আলী, মো. মাহিদুল মাইদুল ইসলাম ও মো. মাজহার উদ্দিন মাজেদসহ অজ্ঞাতনামা ২-৩ জন তাদের পাঠিয়েছেন এবং তারা একত্রে প্রতারণার উদ্দেশ্যে স্বাক্ষর নেয়ার জন্য এসেছিলেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটনের সদর থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আসামিরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময় দেশের নিরীহ মানুষদের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা ও লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে ব্ল্যাংক চেক ও লিখিত স্ট্যাম্প নিয়ে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতি করে আসছিল। বিষয়টি মহানগর গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত করছে।’

ইএ