নরসিংদীর ধর্ষণকাণ্ড: ‘কার্যকলাপে’ বিরক্ত, মেয়েকে হত্যা করে নাটক সাজান সৎ বাবা

পুলিশি হেফাজতে আসামি
পুলিশি হেফাজতে আসামি | ছবি: এখন টিভি
1

নরসিংদীর মাধবদীতে আলোচিত আমেনা আক্তার (১৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। মেয়ের বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হয়ে তাকে হত্যা করেন তার সৎ বাবা আশরাফ আলী।

আজ (শনিবার, ৭ মার্চ) দুপুরের পর নরসিংদীর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল ফারুক। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, ‘মাধবদী থানার আলোচিত আমেনা হত্যার ঘটনার আসামী নূর মোহাম্মদ ওরফে নুরার (২৮) সঙ্গে পূর্ব হতে প্রেমের সম্পর্ক এবং শারীরিক সম্পর্ক ছিল আমেনার। অপরদিকে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি আসামি হযরত আলী, এবাদুল, জামান ও গাফফার আমেনাকে হযরত আলীর বাড়িতে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। পরে এ ঘটনা জানাজানি হলে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলে।

আরও পড়ুন:

এদিকে আমেনার সৎ পিতা আশরাফ আলী গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক তার এক সহকর্মী সুমনের বাড়িতে যাওয়ার পথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে একাই আমেনাকে হত্যা করেছে বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তিনি তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন, আমেনার বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ বিরক্ত ছিলেন এবং সামাজিকভাবে বিভিন্ন সময়ে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার কারণেই তাকে হত্যা করেন।’

পুলিশ সুপার জানান, আমেনার সৎ বাবা আশরাফ আলীর কথাবার্তা সন্দেজনক হওয়ায় ও আসামিদের জবানবন্দির ফলে তাকে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া, প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দীর একটি সরিষা খেত থেকে আমেনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় আমেনার সৎ বাবা জানান, বখাটে চক্রটি তরুণী আমেনাকে তার বাবার সামনে থেকেই ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং পরে তাকে পুনরায় গণধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করে।

এসএইচ