ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান জানান, স্ক্যাম সেন্টার থেকে এ আটজনকে উদ্ধার এবং তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, থাইল্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, থাইল্যান্ডের স্থানীয় এনজিও ‘সিভিল সোসাইটি নেটওয়ার্ক ফর ভিকটিম অ্যাসিস্ট্যান্স ইন হিউম্যান ট্রাফিকিং’ সহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করেছে ব্র্যাক।
আজ বিমানবন্দরে অবতরণের পর বিমানবন্দরে কর্মরত ব্র্যাকের ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম, সিভিল এভিয়েশন অথোরিটি, প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক, ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বাংলাদেশ সিআইডি পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রত্যেককেই যাতায়াত ভাড়া, জরুরি খাদ্য সহায়তা ও প্রাথমিক সাইকোসোশ্যাল কাউন্সিলিং প্রদান করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের পরিবার জানিয়েছেন, এদের কাউকে দুবাই, মালয়েশিয়া বা সরাসরি ঢাকা থেকে থাইল্যান্ডে কম্পিউটার সংক্রান্ত ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যায়। এরপর থাইল্যান্ডের সীমান্ত এলাকা মায়ে সট হয়ে তাদের জোরপূর্বক মিয়ানমারে প্রবেশ করানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পরই তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বিদেশের মাটিতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয় এবং ভয়াবহ নির্যাতন করে নানা ধরনের সাইবার জালিয়াতির কাজ করানো হতো।
লালমনিরহাটের মো. আব্দুল মালেক, হাবিবুর রহমান, ঢাকার রহিম বাদশা, খুলনার এসকে মিনহাজুল হোসেন, নরসিংদী মো. মেহরাজ হাসান, ফরিদপুর রিয়াজ ফকির, গাজীপুর রিপন মিয়া এবং বান্দরবান উলহাসায় মারমা আজ দেশে ফিরেছেন।
আরও পড়ুন:
ভুক্তভোগীদের মধ্যে মেহরাজ হাসান জানিয়েছেন, ঢাকার বাসা থেকে দুবাই ও পরে থাইল্যান্ডে কম্পিউটার সংক্রান্ত কাজের প্রলোভনে যান। মিয়ানমারে তাকে জোরপূর্বক দেড় বছরের কনট্রাক্টে সই করতে বাধ্য করা হয়। প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফোন নম্বর সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হলে তাকে অমানবিক শারীরিক ও মানসিক শাস্তি দেয়া হতো, যার মধ্যে ছিল রোদে মাঠে দৌড়ানো, ২০ লিটার ওজনের পানির পাত্র বহন করা এবং দীর্ঘ সময় অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা।
রিয়াজ ফকির ও রহিম বাদশা জানিয়েছেন, প্রথমে ট্যুরিস্ট ভিসায় থাইল্যান্ডে প্রবেশের পর তাদের মায়ে সট সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়। একইভাবে জোরপূর্বক কাজের কনট্রাক্টে বাধ্য করা হয় এবং প্রতিনিয়ত শারীরিক ও প্রাণনাশের হুমকির মুখোমুখি হতে হয়।
রিপন মিয়া জানান, মালয়েশিয়া থেকে উন্নত কাজের আশায় থাইল্যান্ডে আসার পর তাকে মিয়ানমারে আটকে রাখা হয়। তার পাসপোর্ট ও মোবাইল কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক কাজের চুক্তিতে বাধ্য করা হয়।
মিনহাজুল হোসেন জানান, তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে থাইল্যান্ডে আসার পর মায়ে সট এলাকায় আটকা পড়েন। এক বছরের কনট্রাক্ট শেষ হওয়ার পরও তাকে মুক্তি না দিয়ে দেশে ফেরার বিনিময়ে মোটা অংকের অর্থ দাবি করা হয়। প্রত্যেকের নির্ধারিত কাজ ছিল মূলত ফেসবুকের মাধ্যমে মানুষের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর সংগ্রহ করা। এ টার্গেট পূরণে সামান্য ভুল বা ব্যর্থতা হলেই চলতো চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
এর আগে, ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর মিয়ানমার থেকে একইভাবে নিপীড়নের শিকার ১৮ বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছিলেন। গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম কম্পিউটার বা ইন্টারনেটে বিদেশে চাকরির বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।





