পুলিশ জানায় আজ দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শিবালয় উপজেলার দক্ষিণ শালজানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার করা মোশাররফ হোসেন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পৌলি এলাকার বাসিন্দা।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানায়, গত ১০ জানুয়ারি রাতে নুরজাহান বেগম মেয়ের জামাইয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলে ঘুমিয়ে পড়েন। পরেরদিন থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে ভাড়াটিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে মেয়ে কাজল রেখা জানেন ঘর বাহিরে থেকে তালা দেয়া। রোববার (১১, জানুয়ারি) সারাদিন খোজাখুজির পর রাতে বাড়িতে গিয়ে দেখেন ঘরের বাতি জ্বলছে। স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে নুরজাহান বেগমের মরদেহ পরে আছে। এ ঘটনায় তার মেয়ে কাজল রেখা বাদী হয়ে মামলা করেন।
পুলিশের জানায়, অভিযুক্ত মোশাররফ হোসেন নিয়মিত নুরজাহান বেগমের দোকান থেকে বাকিতে পণ্য নিতেন। তার অভিযোগ নুরজাহান বেগম ন্যায্য দামের চেয়ে অতিরিক্ত দাম খাতায় লিখে রাখতেন। আর নুরজাহান বেগমও তাকে টাকা পরিশোধে চাপ দিয়ে আসছিলেন।
পাশাপাশি তার স্ত্রীকে নিয়ে জনসম্মখে অপমানজনক কথা বলেছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ১০ জানুয়ারি রাতে নুরজাহান বেগমের বাড়িতে ঢুকে কাঠের পিড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। পরে ওড়না ও কাথা দিয়ে শ্বাসরোধ করেন। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে কারেন্টের তার গলায় পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে পালিয়ে যান।
আরও পড়ুন:
পুলিশ সুপার মো. সারওয়ার আলম জানান, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ঘটনায় ভিকটিমের ব্যবহৃত কানের দুল ও অন্যান্য জিনিসপত্র আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোশাররফ হোসেন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিবে বলে জানিয়েছে। আগামীকাল (বুধবার, ১৪ জানুয়ারি) তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন—অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মহরম আলী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সালাউদ্দিন, মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ইকরাম হোসেন ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।





