ভোরের আলো ফুটতেই সবজির মাঠে ছুটছেন কৃষক। কেউ জমিতে সার দিচ্ছেন, কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন; আবার কেউ ব্যস্ত গাছের পরিচর্যায়। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে দিন-রাত পরিশ্রম করলেও সারসহ নানা কারনে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ।
টাঙ্গাইল সদরের কাশিনগর গ্রামের কৃষক হযরত আলী। চলতি মৌসুমে ২২ শতাংশ জমিতে করোলা চাষ করতে তার সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। তবে ফলন ভালো হলেও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লোকশানের শঙ্কায় তিনি।
হযরত আলীর মতো কৃষকরা চলতি মৌসুমে সবজি চাষে লাভ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। তারা বলছেন, বৃষ্টি কম হওয়ায় সেচ খরচ বেড়েছে। এছাড়াও কীট নাশক, সার ও শ্রমিকের মজুরি বাড়ার কারনে বিপাকে পড়েছেন। সবজির ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন প্রান্তিক কৃষকরা।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কৃষকরা সবজির ন্যায্য মূল্য না পেলে পেশা বদলের পাশাপাশি উৎপাদনে ঘাটতি পড়বে। মূলধন হারানোর পাশাপাশি এর প্রভাব পড়বে প্রান্তিক ও দেশের অর্থনীতিতে। সবজির নির্ধারিত দামের পাশাপাশি কোল্ড স্টোরেজ বাড়ানোর দাবি এই অর্থনীতিবিদের।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. নাজমুস সাদেকীন বলেন, ‘অর্থনীতির তো ঝুঁকি আছেই, এছাড়া সার্বিক গ্রামীন অর্থনীতিও ঝুঁকিতে পড়বে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এসব কৃষকদের আয়ে এক ধরনের অস্থিরতা আসবে। আগে যাদের আয় ভালো ছিলো, তাদের আয়টা ধীরে ধীরে কমে যাবে। এতে গ্রামীন বাজারেও অস্থিরতা দেখা দেবে।’
এদিকে কোনো ডিলারের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন কৃষি কর্মকর্তা। টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আশেক পারভেজ বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত মূল্যের জন্য আমরা আসলে সার ব্যবস্থাপনা সাধারণত ডিলারের মাধ্যমে সার বিতরণ করি। যেহেতু এটার ভর্তুকি সরকার দিয়ে থাকে এবং ডিলারদের মনিটরিং করা আমাদের দায়িত্ব। আমরা ন্যায্যমূল্যে এটা বিতরণের চেষ্টা করি এবং এক্ষেত্রে আমাদের সার্বক্ষণিক মনিটরিং থাকে।’
এবার ফুলকপি, বাধাকপি, টমেটোসহ নানা ধরনের সবজির চাষ বেশি হয়েছে। সবুজ মাঠে কৃষকের স্বপ্ন, ভালো ফলন, ভালো দাম পেলে ফুটবে মুখে হাসি। কিন্তু বাড়তি উৎপাদন খরচ সেই স্বপ্নে ফেলছে দুশ্চিন্তার ছায়া। তাই উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি কৃষকের লাভ নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।





