বৃদ্ধ বয়সেও ঘানি টানছেন দম্পতি; শেষ সম্বল একটি গরুর প্রত্যাশা

ঘানি টানছেন দম্পতি
ঘানি টানছেন দম্পতি | ছবি: এখন টিভি
0

গরু কেনার টাকা না থাকায় নিজেরাই ঘানি টেনে তেল উৎপাদন করছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শম্ভু পদ সাহা ও তার স্ত্রী গাজলী রানী সাহা। আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা এই কাঠের ঘানিই এখনো তাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন। তবে বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে শরীর, কমেছে কর্মক্ষমতা। ফলে আগের মতো আর তেল উৎপাদন করতে পারেন না তারা। তাই শেষ বয়সে ঘানি টানার কষ্ট কিছুটা কমাতে একটি গরুর প্রত্যাশায় দিন গুনছেন এই দম্পতি।

কাঠের ঘানির চারপাশে ঘুরছেন এক দম্পতি। ঘুরছে ঘানি, পিষে যাচ্ছে সরিষা, ঝরছে ফোঁটা ফোঁটা তেল। তবে এই ঘানির সঙ্গে শুধু সরিষাই পিষছে না, পিষে যাচ্ছে তাদের জীবনের ক্লান্তিও।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার হাজারবিঘী গ্রামের দম্পতি শম্ভু পদ সাহা ও গাজলী রানী সাহা। গরুর বদলে নিজেরাই টানছেন কাঠের ঘানি। এর সঙ্গেই ঘুরছে তাদের জীবনের চাকা। বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে শরীর, কমেছে শক্তি। তাই আগের মতো আর ঘানি টানতে পারেন না তারা। জীবনের এই প্রান্তে এসে তাদের একটাই চাওয়া একটি গরু, যাতে একটু স্বস্তি ফেরে জীবনে।

শম্ভু শাহা বলেন, ‘আমরা গরু কিনতে পারি না। তাই আমরা নিজেরাই এই ঘানি টানি।’

গরুর অভাবে প্রায় পাঁচ মণ ওজনের ঘানি নিজেরাই টানছেন এই দম্পতি। বয়সের ভারে বাড়ছে কষ্ট। সরকারি সহায়তায় তাদের কষ্ট লাঘবের পাশাপাশি টিকে থাকবে বংশপরম্পরার এই পেশা দাবি স্বজনদের।

স্বজনরা জানান, অনেক আগে থেকেই তারা দেখে আসছেন তাদের ঘানি টানতে।

আধুনিক যন্ত্রে উৎপাদিত সরিষার তেলের চেয়ে এই তেল বেশি খাঁটি। এমনকি এই তেল ব্যবহারে বিভিন্ন রোগবালাইও দূর হয় দাবি স্থানীয়দের।

পুরোনো এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে বিত্তবানদের সহযোগিতার আহ্বান জনপ্রতিনিদের। অন্যদিকে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস উপজেলা প্রশাসনের।

সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ জুলফিকার আলী বলেন, সরকারের উচিত তাদের দিকে দৃষ্টি দেয়া।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিবগঞ্জ চাঁপাইনবাবগঞ্জ মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ওই পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা এ বিষয়ে দৃষ্টি দেব যেন তাদের আর কষ্ট করতে না হয়। বর্তমান সময়ের সঙ্গে আসলে এটি যায় না।’

শুধু শম্ভু সাহা নন, তার দুই ভাই হরিপদ সাহা ও তারাপদ সাহাও একইভাবে বুকের শক্তিতে কাঠের ঘানি টেনে সরিষা পিষে আয় করছেন। এ আয় দিয়েই কোনো রকমে সংসার চালিয়ে আসছেন তিন ভাই।

এফএস