নেত্রকোণার নারায়ণ চন্দ্র পাল, ৩০ বছর ধরে তৈরি করছেন দুর্গাপ্রতিমা। সৃজনশীলতা ও নিখুঁত কারুকাজে প্রতিমা ফুটে উঠলেও, ঘোরে না তাদের ভাগ্যের চাকা। উপকরণের দাম বাড়ায় বেড়েছে খরচ। সেই তুলনায় আয় তো বাড়েইনি বরং কমে যাওয়ায় সবার কপালেই চিন্তার ভাঁজ।
নারায়ণ চন্দ্র পাল বলেন, ‘আগের মত প্রতিমা তৈরি করে পোষায় না। লোকের বেতন বেশি দিতে হয়। তারপরে সব জিনিসের দামই তো বেড়ে গেছে।’
কারিগররা জানান, একটা বাঁশ ছিলো ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা, এখন একটা বাঁশ কিনতে লাগে ৪০০ টাকা। কাপড় ৯০০ টাকা থান ছিলো, এখন ১০৫০ টাকা থান।
পূজার আয়োজকরা জানান, নেত্রকোনায় এবছর ৫৪৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে, যা গত বছরের তুলনায় ৩৫টি বেশি। পুলিশ জানিয়েছে পূজা কেন্দ্র করে থাকবে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা।
নেত্রকোণার পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লিটন চন্দ্র পণ্ডিত বলেন, ‘বছরে একটি পূজা, আনন্দ-উৎসব করার জন্য সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে থাকে। সেজন্য ব্যয়ের কথা চিন্তা না করে তারা উৎসবটি পালন করতে হবে, সেটি মাথায় রেখে তারা কাজটিকে চালিয়ে যায়।’
নেত্রকোণার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘পূজা কমিটি কর্তৃক তারা যেন ভলান্টিয়ার টিম রাখে, এটার আমরা ব্যবস্থা রাখছি, তাদের সঙ্গে কথাবার্তা হয়েছে। সব মিলিয়ে আমরা গত বছরের ন্যায় বা অন্যান্য বছরের ন্যায় নেত্রকোনায় যেন খুব সুন্দরভাবে পূজা উদযাপিত হতে পারে, সেজন্য সকল ধরনের প্রস্তুতি আমরা গ্রহণ করছি।’
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট পালপাড়ায় প্রতিমা তৈরির ইতিহাস শত বছরের। এখানকার তৈরি প্রতিমা যায় নাটোর, বগুড়াসহ আশেপাশের জেলাগুলোতে। দাম ২৫ হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত। উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছুটা আক্ষেপ থাকলেও, পূর্বপুরুষের পেশা ও ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন পালরা। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ বলছে, এ বছর জেলায় ৫৪২টি পূজা মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গাপূজা। পূজা উৎসবমুখর করতে চলছে সব ধরনের প্রস্তুতি। জেলা জুড়ে নেয়া হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা।
সিরাজগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সন্তোষ কুমার কানু বলেন, ‘ভক্তবৃন্দ আসবে, আমরা তারা যেন সুন্দরভাবে মাকে দর্শন করতে পারেন।’
সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, ‘মূলত ইভটিজিং যাতে না হয়, নারী-শিশুদের নিরাপত্তা থাকে, সড়ক পথে যাতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সম্মুখীন না হয়, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেছি এবং তাদেরকে স্বেচ্ছাসেবক রাখার জন্য আমরা বলেছি।’
মৌলভীবাজারে এবছর ১ হাজার ১৮ টি মণ্ডপে হবে দেবীর পূজা। কাশফুল আর ঢাকের আওয়াজে ঘোড়ায় চেপে আসছেন দুর্গতিনাশিনী। আগের বছরের চেয়েও এবার জাঁকজমকভাবে উদযাপিত হবে সনাতনধর্মীদের সবচেয়ে বড় উৎসব, প্রত্যাশা আয়োজকদের। বড় বড় পূজা মন্ডপগুলোতে নেয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। লাগানো হচ্ছে সিসি ক্যামেরাও।
মৌলভীবাজার জেলা বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহিম দে বলেন, ‘আমরা আশা করছি এ বছর উৎসবমুখর পরিবেশে এবং বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে যে আমাদের প্রতিষ্ঠিত করব, সেই আলোকেই আমরা মনে হয় সবাইকে নিয়ে এবার পূজা উৎসবটি আমরা অনুষ্ঠিত করতে পারব।’
চা শ্রমিকসহ প্রত্যেকটি সার্বজনীন মন্দিরে ৬০০ কেজি করে চাল ও সহযোগিতা করা হচ্ছে। বারবার সভা সমাবেশ করছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যাতে করে পূজা নিরাপদ ও জমজমাট হয়।
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে। এবং এরই মধ্যে তারা কাজ শুরু করে দিয়েছে। আর স্বাভাবিকভাবেই রাস্তায় যাতে যানজটটা কম হয়, সে ব্যাপারে আমাদের এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’
আক্ষেপ বা বেদনা যাই থাকুক না কেন, দশভুজার আগমনে আনন্দেই কাটবে এই কয়েকদিন এমন প্রত্যাশা সবার।





