জামালপুরের লক্ষ্মীপুর গ্রামের ৯০ বছর বয়সী আলমাস প্রামাণিকের পাঁচ ছেলে, চার মেয়ে। ছেলে-মেয়েরা বিয়ে করে আলাদা সংসার করছে। ব্রহ্মপুত্রের করাল গ্রাসে আটবার নদের গর্ভে বসতভিটাসহ ২৫ বিঘা জমি হারিয়ে এখন নিঃস্ব তিনি।
আলমাস প্রামাণিক বলেন, ‘দশদিন ধরে বাড়িঘর ভাঙতে আছি দশদিন। কয়দিন পর পর, কি খাই কি না খাই আল্লাহই জানে, গরু-বাছুর সব হুদিস নাই। এক বছরে তিন ভাঙন দিছে, তিন ভাঙন দিয়া এডাই আইসি, এডাই আইসা ঘরদর পুঁজি কইরা আবার বাড়ি ধরছি।’
ভাঙনের কবলে পড়ে গ্রামের অনেক বসতভিটা, ফসলের মাঠ, কাঁচা সড়ক, মসজিদসহ নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এরই মধ্যে প্রায় ৫০টি বসতবাড়ি, ৬ কিলোমিটার জায়গা বিলীন হয়েছে।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘আংগোর বাই-ভিটাডা খালি আছে, কিচ্ছু নেইকা। ঘরদর নিয়া ভাইঙ্গা আস্তামু ঠেলি সি।’
আরও পড়ুন:
অন্য একজন বলেন, ‘দোচালা ঘর তোলারও কোনো সামর্থ্য নাই। ত্রিপলটা নিয়ে এই বৃষ্টি-বাতারে আমাদের খুবই কষ্ট যাচ্ছে।’
এলাকাবাসীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এই সরকারের কাছে আমাদের আবেদন—না থাকবার বাসা তো চাও নাই। কই যামু গা? ভাইসা কোথায় যামু? যাওয়ার কোনো উপায় নাই।’
অধিক ঝুঁকিতে পড়েছে ইসলামপুরের চর গোয়ালিনী ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর, নতুনপাড়া, দক্ষিণপাড়া, কান্দার চর, গুনাপাড়া, ৪ নং ডিগ্রির চরসহ ১১টি গ্রাম। তবে অভিযোগ উঠেছে, নতুন করে ভাঙনের শিকার এলাকাগুলোতে ভাঙন রোধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড।
স্থানীয় এক যুবক বলেন, ‘পর্যাপ্ত পরিমাণ ভাঙতেছে। এখন আমাদের থাকার জায়গা নাই, খাওয়া নাই, ঘুম নাই। আমি বাপ-মা পোলাপাইন নিয়া খুব কষ্টের মধ্যে আছি।’
অন্য একজন বলেন, ‘১২-১৩টা ঘরবাড়ি চইলা গেছে। এখন বর্তমানে যা দেখা যাইতেছে, এই বরাবর দুই-একশ বাড়িঘর আছে, বাড়িঘরগুলাও ভেঙে যাবো।’
আরও পড়ুন:
এদিকে লক্ষ্মীপুর গ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের বাম তীরে ১০০ মিটার তীব্র ভাঙনের কবলে পড়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন রোধে আপৎকালীন দ্রুত জিওব্যাগ ফেলেছে বলে দাবি তাদের। এছাড়াও নদের আপ ও ডাউনে আরও ভাঙন চলছে, অফিস বরাদ্দ পেলে সেখানেও কাজ করার আশ্বাস তাদের।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান বলেন, ‘আমাদের আলাই নদীতে ৫০ থেকে ১২০ মিটার জরুরি প্রতিরক্ষা কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি টুককার চরে ২৪০ মিটার জরুরি কাজ এরইমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আরও যেসব জায়গা ভাঙন কবলিত রয়েছে, সেগুলো আমরা দ্রুতই চিহ্নিত করছি এবং দ্রুত জরুরি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করছি।’
নদী ভাঙনের শিকার হয়ে এলাকা ছাড়া সহ সড়কের পাশে দুচালা আশ্রয় নিয়েছে অনেকেই। এছাড়া ফসলি জমি হারিয়ে কাজ না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারগুলো।



