আটকের প্রায় এক ঘণ্টা আগে করোল বাগে এনসিপি (শরদচন্দ্র পওয়ার) নেতা অনীশ গাওয়ান্ডের বাসভবনে অবস্থানরত অভিজিৎ দিপকের কাছে গিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তা মিছিল বাতিলের নোটিশ দেন। অভিজিৎ দিপকে নোটিশ গ্রহণ করলেও সিজেপির অন্য দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ডাকা বিকেল ৫টার তেরঙ্গা মিছিল বাতিল করতে অস্বীকৃতি জানান। এরপরই পুলিশ অভিজিৎ দিপকেকে আটক করে। আটকের সময় সিজেপির ইনস্টাগ্রাম পেজে প্রচারিত সরাসরি সম্প্রচারে অভিজিৎ দিপকে পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করেন, ‘আমরা তো বলিনি যে আমরা প্রতিবাদ করব… আমরা কেবল জাতীয় পতাকা উড়াবো। সেটাও কি অনুমতিযোগ্য নয়?’
আটকের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে দিপকে অভিযোগ করেন, বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) চলাকালে ভোটার তালিকায় নানা অনিয়ম হয়েছে। তিনি সর্বদলীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আজ রাতে বা আগামীকাল সকালে দিল্লি পুলিশ আমাকে তুলে নিয়ে যেতে পারে। এই দেশে যদি জাতীয় পতাকা ওড়ানোর জন্য জেলে যেতে হয়, তবে আমরা তার জন্য প্রস্তুত।’ বিকল্প বিক্ষোভ স্থলের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যের জবাবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমরা যদি ১০০টি স্থানের ঘোষণা দিই, নরেন্দ্র মোদি কি ১০০টি স্থানই বন্ধ করে দেবেন? দিল্লি পুলিশের জাতীয় পতাকা ওড়ানো নিয়ে সমস্যা কী?’
অন্যদিকে, আইসা প্রধান নেহা বোরাকে কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কের কাছ থেকে আটক করা হয়। পুলিশ এলাকা খালি করার নির্দেশ দেয়ার পরপরই সেখানে জড়ো হওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। সেন্ট্রাল পার্ক, পালিকা বাজার ও মান্ডি হাউসে জেএনইউ, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জাতীয় পতাকা হাতে আকস্মিক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। মান্ডি হাউসে শিক্ষার্থীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেস কুমারের পদত্যাগ, এসআইআর বাতিল এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন প্রত্যাহারের দাবি জানান। সেখানে এসএফআই-এর মিছিলে অংশ নেন সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস।
যন্তর মন্তরে ঢুকে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অভিযোগে সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর পর এই তেরঙ্গা মিছিলের আয়োজন করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কমিটির সুপারিশ ও সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের নির্দেশনার পর দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসেবে বাতিল করে। এর বদলে রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড ও সিবিডি গ্রাউন্ডকে বিকল্প স্থান নির্ধারণ করা হয়। যন্তর মন্তর বাতিলের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, সংসদ ও সুপ্রিম কোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে বিক্ষোভ দূরে সরাতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিউ দিল্লি মিউনিসিপাল কাউন্সিল (এনডিএমসি) ১৬ ও ১৭ অক্টোবর সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। সংসদ মার্গ, জনপথ, বারাকাম্বা রোড, তিলক মার্গ ও মান্ডি হাউসসহ প্রধান প্রধান সড়কে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এদিকে, বেঙ্গালুরুতেও টাউন হল থেকে শর্তসাপেক্ষে একটি তেরঙ্গা মিছিল করে সিজেপি। রাজনৈতিক অঙ্গনে কংগ্রেসের উত্তর প্রদেশ প্রধান আরাধনা মিশ্র মোনা ও সমাজবাদী পার্টির সংসদ সদস্য ইকরা হাসান প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেস কুমারকে সমর্থন দেয়ার জন্য বিজেপির সমালোচনা করেছেন। অপরদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং অভিযোগ করেছেন, বিরোধীরা তরুণদের ব্যবহার করে নৈরাজ্য সৃষ্টি এবং বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া অভ্যুত্থানের মতো ক্ষমতার রদবদল চাইছে।
 leader Abhijeet Dipke and AISA chief Neha Bora-768x402.webp)




