তপ্ত রোদে সিলেট নগরীর সড়কে যাত্রীর অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা উবার ও পাঠাও রাইডাররা। স্বাধীনভাবে কাজ করে স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় অনেকেই চাকরি ছেড়ে বেছে নিয়েছিলেন রাইড শেয়ারিং পেশা। কিন্তু জ্বালানি তেলের দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধিতে সেই আশাতেও এখন পড়েছে ভাটা।
নগরীর শেখঘাটের যুবক মো. সানী। চাকরি ছেড়ে উবার রাইডিংয়ে যুক্ত হয়েছিলেন নিজের মতো করে আয় করার আশায়। কিন্তু জ্বালানির বাড়তি খরচে প্রতিদিনের হিসাব এখন আর মিলছে না তার।
সানিমহ ও অন্য রাইডাররা জানান, তেলের দাম বাড়তি ফলে তাদের ভোগান্তিতে বেড়েছে। নাগালের মধ্যে তেলের দাম রাখার দাবি তাদের।
শুধু উবার বা পাঠাও রাইডার নন, একই সংকট বিভিন্ন অনলাইন ফুড ডেলিভারি কর্মীদেরও। খাবার বা পণ্য পৌঁছাতে জ্যামে দীর্ঘ সময় রাস্তায় থাকায় জ্বালানি ব্যয়ে কমে যাচ্ছে তাদের আয়। এসব কর্মীরা বলছেন, প্রতিটি ডেলিভারিতে যে পারিশ্রমিক পাওয়া যায়, তার বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছে জ্বালানি কিনতে।
ফুড ডেলিভারি ম্যানরা জানান, বাড়তি তেলের দামের জন্য সবকিছুর দাম নাগালের বাহিরে। পরিবারের খরচ মেটাতে তাই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
একাধিকবার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষুদ্র ও স্বনির্ভর পেশাজীবীদের ওপর বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ। জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারদর বিবেচনায় দেশে দাম নির্ধারণের পাশাপাশি উবার, পাঠাও ও অনলাইন সেবাখাতে কর্মরত রাইডার ও ডেলিভারি কর্মীদের বিশেষ প্রণোদনা প্রয়োজন বলে মনে করেন রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
রাজনীতিবিদ প্রণব জ্যোতি পাল বলেন, ‘এই জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে অন্যান্য জিনিসের দাম যখন বাড়বে, তখন আমার শ্রমজীবী মানুষ, সাধারণ মানুষ, বেসরকারি চাকরিজীবী যারা, তাদের জীবনে যে অর্থনৈতিক চাপটা আসবে, সেটা কীভাবে সামাল দিবে?’
সংগঠক শাহাদাত বখত বলেন, ‘জনগণের চলাফেরায় যদি এই ধরনের মানে হঠাৎ করে পেট্রোলের দাম বেড়ে যায়, তাইলে তো মানুষ চলতে পারবে না। মানুষের জীবন-জীবিকা মানে একটা বিশাল মানে বিঘ্ন ঘটবে।’
তরুণদের কাছে উবার, পাঠাও ও অনলাইন ডেলিভারি- আয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। নিজের সময় ও শ্রমকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই এই পেশায় যুক্ত হয়েছেন। কিন্তু জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে এসব কর্মীর জীবন-জীবিকাই নয়, এর প্রভাব পড়তে পারে নগরকেন্দ্রিক অনলাইনসেবা ব্যবস্থাতেও।





