পিছিয়ে পড়া অধুনালুপ্ত ছিটমহলের দিনবদল; গ্রাম হয়েছে শহরের মতো!

অধুনালুপ্ত ছিটমহলের একটি দৃশ্য
অধুনালুপ্ত ছিটমহলের একটি দৃশ্য | ছবি: এখন টিভি
0

এক সময় যে ছিটমহলের মানুষগুলোর ছিলো না কোনো নাগরিক পরিচয়, সেই ছিটমহলই এখন বদলে যাওয়া জনপদের নাম। নাগরিকত্ব মেলার পাশাপাশি মিলেছে রাস্তা ঘাট, বিদ্যুৎ, স্কুল কলেজ, মাদরাসা, কমিউনিটি ক্লিনিক, সামাজিক নিরাপত্তা ভাতাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা; গ্রাম হয়েছে শহরের মতো।

পঞ্চগড়ের অধুনালুপ্ত গাড়াতি ছিটমহলের গাঁয়ে এখন যে পাকা রাস্তায় দেখা যায় সেই রাস্তাটি এক সময়ে ছিলো কাঁদামাখা পথ। বর্তমানে সেই প্রত্যন্ত গ্রামের সব রাস্তাই পাকা।

এভাবেই বদলে গেছে জেলার ৩৬টি ছিটমহলের চিত্র। ৬৮ বছর বঞ্চিত এসব জনপদের বাসিন্দারা পেয়েছেন বাংলাদেশের নাগরিকত্ব। আর রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা, কমিউনিটি ক্লিনিক, সামাজিক নিরাপত্তা ভাতাসহ অনেক সুযোগ-সুবিধা। গ্রাম এখন অনেকটা শহরের মতো।

এক সময়ে ছিটমহলের বাসিন্দারা স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে কোন নাগরিক সুবিধাই পায়নি। ছিটমলের শিশুরা এখন বাড়ির দোরগোড়ার বিদ্যালয়ে পড়তে পারছে খুব সহজেই।

স্থানীয় শিক্ষার্থীরা জানায়, একসময় স্কুলগুলো অনেক দূরে ছিলো। এখন স্কুল কলেজগুলো অনেক কাছাকাছি। এছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ ও পাকা রাস্তা হওয়ায় তাদের বেশ সুবিধা হয়েছে বলেও জানান তারা।

আরও পড়ুন:

২০১৫ সালের ১ আগস্ট বাংলাদেশের মূল ভূখন্ডের সাথে যুক্ত হয় পঞ্চগড়ের ৩৬ টি ছিটমহল। ৬৮ বছরের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয় ছিটমহলের বাসিন্দারা। তবে যারা দেশ হিসেবে ভারতকে বেছে নিয়ে চলে গেছেন, তারা কাঙ্খিত সুযোগ-সুবিধা পাননি বলে দাবি স্বজনদের।

ছিটমহলের এতসব সফলতার গল্পের মধ্যেও রয়েছে কিছু অপ্রাপ্তির গল্প। তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য স্থাপন করা ডি-সেট সেন্টার ও একটি পোস্ট অফিস রয়েছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের সিদ্ধান্ত থেমে আছে প্রাচীর নির্মাণেই। এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস জেলা প্রশাসনের।

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন বলেন, ‘চাহিদাভিত্তিক কী ধরনের উন্নয়ন প্রয়োজন এবং আমাদের বিদ্যমান অবকাঠামোগুলোকে কীভাবে কার্যকর করা যায়, সেই অনুযায়ী আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

একসময় যে ছিটমহল ছিলো আতঙ্কের নাম এখন তা সমৃদ্ধ জনপদ, পরিবর্তন এসেছে কৃষি অর্থনীতির। অধুনালুপ্ত ছিটমহলের ছেলে মেয়েরা এখন আলোর পথে এগিয়ে যাচ্ছে সমান তালে।

এসএইচ