বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বাসিন্দা মাসুদ রানা। ১৮ জুন ভাগিনাকে নিয়ে অসুস্থ বাবাকে দেখতে যান হাসপাতালে। কেবিনে অসুস্থ বাবা ও ভাগিনাকে রেখে বাইরে যান তিনি। এসময় অজ্ঞাত পরিচয় এক লোক মোবাইল ফোন চার্জের কথা বলে কেবিন থেকে মানিব্যাগ ও সাড়ে ১৭ হাজার টাকা নিয়ে চলে যায়। তাৎক্ষণিক সিসিটিভির ফুটেজ নিয়ে থানায় জিডি করেন মাসুদ। এমন ঘটনা একা মাসুদের নয়, রয়েছে আরো অনেক ভুক্তভোগী। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ৭টি চুরির ঘটনা ঘটেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপের আড়ালেই থাকছে এসব চোর চক্রের সদস্যরা। তারা প্রায় সময় মোবাইল ফোন, মানিব্যাগসহ বিভিন্ন চুরির ঘটনা ঘটায়।
অপরদিকে, হাসপাতালের কেবিন থেকে চুরি হওয়ার বিষয়ে অভিযোগ করার পরেও কোনো সুরাহা না পাওয়ার অভিযোগ ভুক্তভোগী মাসুদের।
আরও পড়ুন
ভুক্তভোগী মাসুদ রানা বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখার পরে আমি সেই উক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পারি। তারপর আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবগত করি। অবগত করার পর উনারা আমাকে বলেন যে, তুমি থানায় একটা এজাহার দায়ের করো। তখন বিকাল ৫টা ৩০ মিনিট থেকে ৬ টার দিকে আমি ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাইনি।’
হাসপাতালে নিজের মূল্যবান জিনিস চুরি হয়ে যাওয়া বিপাকে ও চিন্তিত ভুক্তভোগীরা। দ্রুত সময়ে বিষয়গুলো কঠোরভাবে দেখার আহ্বান তাদের।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একজন বলেন, ‘এটা প্রশাসনকে দেখা দরকার। কারণ প্রশাসন ছাড়া তো এখানে আপনার মতো, আমার মতো লোক তো পারবে না জিনিসগুলো।’
চুরি প্রতিরোধে কাজ করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কঠোর নজরদারির পাশাপাশি লাগানো হয়েছে ৫২টি সিসি ক্যামেরা। আগামী মাসের শুরু থেকে ৩০ জন আনসার সদস্য থাকবে। এর পাশাপাশি রোগীদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান এ কর্মকর্তার।
ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফিরোজ জামান জুয়েল বলেন, ‘৫২টা ক্যামেরা স্থাপন করেছি এবং এই ক্যামেরার সূত্র ধরে আমরা চুরি এবং চোরকে ধরতে পারছি। চোররাও যখন বুঝবে যে এটা ধরা পড়ে যাচ্ছে বারবার, তাহলে আল্টিমেটলি একসময় কমে আসবে।’
দ্রুত সময়ে চুরি প্রতিরোধ করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আরো কঠোর হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।




