এরই মধ্যেই ভুক্তভোগী পরিবারটিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা দেয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে।
উপজেলায় চাঞ্চল্য তৈরি করা এ অমানবিক ঘটনাটি গণমাধ্যমে আসার পর পরই ইউএনও সাজ্জাদ হোসেন ভুক্তভোগী রিনা খাতুনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি জানান, অসহায় মা ও তাঁর সন্তানদের আইনি অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসন সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
আজ (শুক্রবার, ১৯ জুন) বিকেলে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেন এখন টেলিভিশনকে জানান, গণমাধ্যমে সংবাদটি আসার পর পরই আমরা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূকে এরই মধ্যেই সব ধরনের প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
তালাকপ্রাপ্তা হয়ে বাপের বাড়িতে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটানো রিনা খাতুন প্রশাসনের এ তড়িৎ পদক্ষেপে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। দুটি দুগ্ধপোষ্য কন্যাসন্তানের সামাজিক মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন।
ইউএনও সাজ্জাদ হোসেন আরও বলেন, ‘ছোট ছোট এ অবুঝ শিশুদের ভবিষ্যৎ, সামাজিক মর্যাদা এবং আইনগত বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে আমাদের পরবর্তী কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অপরাধীদের শাস্তির পাশাপাশি এ মা ও সন্তানদের পুনর্বাসন ও অধিকার ফিরিয়ে দিতে একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থা হবে, ইনশাআল্লাহ।’
এদিকে প্রশাসনের এ শক্ত অবস্থানের পর নতুন কোলা গ্রামসহ গোটা উপজেলায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এ মানবিক ও দ্রুত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী রাকিবুল ইসলাম ও তাঁর বাবা শহিদুল ইসলাম বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, কন্যাসন্তান প্রসবের মতো স্বাভাবিক বিষয়কে কেন্দ্র করে যারা এমন বর্বরতা চালিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন সাহস না পায়।





