আজ (শনিবার, ১৩ জুন) দুপুরে নূরুল আমিনের পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ঘর হস্তান্তর করা হয়। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এইচ আর নাজিম, জহিরুল ইসলাম, মো. সোলেমান হক, ইমাম ও হাফেজ মাওলানা এমদাদুল হকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক ও এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নূরুল আমিন জীবিকার তাগিদে ঢাকার একটি বেসরকারি কারখানায় কাজ করতেন। ২০২১ সালে কর্মরত অবস্থায় ভয়াবহ বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ প্রায় এক বছর চিকিৎসাধীন ছিলেন নূরুল আমিন। চিকিৎসা শেষে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফিরে আসেন গ্রামে। বর্তমানে তিনি স্ত্রী ও তিন কন্যা সন্তান নিয়ে চরম অভাব-অনটনের মধ্যে জীবনযাপন করছিলেন।
গত ২১ মে পবিত্র ঈদুল আজহার আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নূরুল আমিনের জীবন সংগ্রামের বিষয়টি নজরে আসে ডেপুটি স্পিকারের। এর পরপরই তিনি নূরুল আমিনের জন্য একটি নতুন ঘর নির্মাণের আশ্বাস দেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অল্প সময়ের মধ্যেই পাকা ঘর নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, নূরুল আমিনের পরিবার কঠিন সময় পাড় করছে। পরিবারের এমন দুঃসময়ে তার সহোদর ছোট ভাই শামীম মিয়া সাধ্যমতো বড় ভাইয়ের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত নূরুল আমিন বলেন, ‘আমি কখনো ভাবিনি আমার মতো একজন অসহায় মানুষের জন্য কেউ এভাবে এগিয়ে আসবেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আজ আমার সন্তানদের মাথা গোঁজার নিরাপদ একটি আশ্রয় হয়েছে। আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন।’
কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীম বলেন, ‘সাংবাদিকতার অন্যতম দায়িত্ব হলো সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কথা তুলে ধরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও তুলে ধরেন স্থানীয় এক সাংবাদিক। সেই ভিডিওটি নজরে আসলে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এগিয়ে আসছেন। এর মাধ্যমে তিনি মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এ ধরনের উদ্যোগে নিলে অনেক অসহায় মানুষের জীবন বদলে যাবে।’





