রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি: এক যুগ পরও অধরা বিচার

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১২ বছর
রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১২ বছর | ছবি: এখন টিভি
0

একদিনে বদলে গিয়েছিল হাজারো জীবনের মানচিত্র এবং স্বপ্নযাত্রা। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল, সাভারের বুকে আটতলা এক ভবন ধসে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুধু কংক্রিট নয়, চাপা পড়ে যায় স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ আর অসংখ্য পরিবারের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। সেই ট্র্যাজেডির নাম, রানা প্লাজা ধস। এক যুগ পেরিয়ে গেলেও সেই ধ্বংসস্তূপের ধুলো আজও ভুক্তভোগীদের অশ্রু ঝরাচ্ছে, মেলেনি বিচার।

বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা-রানা প্লাজা ধস। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল, সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের আটতলা ভবনটি ধসে পড়ে। চাপা পড়ে ভবনের ভেতরে কর্মরত কয়েক হাজার পোশাক শ্রমিক। এরপর কয়েকদিনের উদ্ধার অভিযানে পাওয়া যায় ১ হাজার ১৩৪ জনের মরদেহ। জীবিত উদ্ধার হন ২ হাজার ৪৩৮ জনেরও বেশি শ্রমিক । তাদের অধিকাংশই গুরুতর আহত, অনেকে হয়েছেন পঙ্গু।

রানা প্লাজা ট্যাজেডির বেঁচে ফেরাদের মধ্যে একজন সাদ্দাম হোসেন। কাজ শুরু করার মাত্র ২০ দিনের মাথায় হারান একটি হাত। বর্তমানে একটি হাত নিয়ে চলছে তার জীবনযুদ্ধ। সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাবো কিনা তাও জানি না। আমরা চাই আমরাদের ক্ষতিপূরণ আর ন্যায় বিচার।’

আরও পড়ুন:

মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়া শিলা এখন কর্মক্ষম নন। সংসার চালানো, মেয়ের পড়াশোনা আর চিকিৎসার খরচ,সব মিলিয়ে অসহায় জীবন। অনেক শ্রমিকের অভিযোগ, হয়নি তাদের স্থায়ী পুনর্বাসন। এছাড়া অন্য কোথাও চাকরির দরখাস্ত দিলে রানা প্লাজার শ্রমিক শোনা মাত্র দেয়া হয়না চাকরি । শীলা বলেন, ‘টাকার অভাবে আমার মেয়েটার পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়েছি।’

শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্তদের নামে বিভিন্ন পক্ষ অর্থ আত্মসাৎ করার কারণে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা এখনো বঞ্চিত। এদিকে শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়নে রানা প্লাজার পরিত্যক্ত যায়গায় বহুতল কমার্শিয়াল স্পেস ও আবাসিক স্থাপনা নির্মাণ করে শ্রমিকদের পুনর্বাসনের কথা জানালেন স্থানীয় প্রশাসন।

রানা প্লাজা সার্ভাইভাল অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মাহমুদুল হাসান হৃদয় বলেন, ‘একজীবনে আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ। স্থায়ী পুনর্বাসন ও ন্যায় বিচার।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাভার ও পৌর প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রানাপ্লাজায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের জন্য সরকার রানা প্লাজার আগের স্থানে একটি মার্কেট করে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

সময় পেরিয়েছে, কিন্তু ক্ষত রয়ে গেছে। বিচার আর পুনর্বাসনের আশায় আজও অপেক্ষায় রানা প্লাজার হাজারো পরিবার। ভবন মালিক কারাগারে থাকলেও গার্মেন্টস মালিকদের অনেকেই ধরাছোঁয়ার বাইরে।

জেআর