অষ্টগ্রামের কারবালা হাটি গ্রামের নিশান। তার দাদা নূর আলী মোঘল সম্রাটদের জন্য তৈরি করতেন এই পনির-সেই গল্প শুনেই বড় হয়েছেন তিনি। দেশের সরকার প্রধান থেকে রাষ্ট্রপতি-অনেকেই নিশানের হাতের তৈরি পনিরের স্বাদ নিয়েছেন।
পনির কারিগর নিশান জানান, অষ্টগ্রাম থেকে পনির নিয়ে ঢাকা বিক্রি করতো। নওয়াবরাও এ পনির খেতো।
অষ্টগ্রামের পনির একসময় প্রায় বাড়িতেই তৈরি হতো। এখন সেটা নেমে এসেছে হাতে গোনা কয়েকজনে। জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার পরও এই পণ্যকে ঘিরে নেই কোনো পরিকল্পিত উদ্যোগ। সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে প্রতিদিনই নষ্ট হচ্ছে বিপুল পরিমাণ পনির।
পনির ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার যদি বিনা সুদে বা বিনা লাভে লোন দিতো তাহলে আরও ভালো হতো।
আরও পড়ুন:
পনির তৈরি প্রক্রিয়াটিও বেশ শ্রমসাধ্য। প্রায় ১০ লিটার দুধ থেকে পাওয়া যায় মাত্র এক কেজি পনির। স্থানীয় বাজারে এই পনির বিক্রি হয় ৭৫০ থেকে ১০০০ টাকা দরে। স্থানীয়দের অভিযোগ-জিআই স্বীকৃতি পেলেও বাজার সম্প্রসারণে নেই তেমন উদ্যোগ।
পনির কারিগর ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এখান থেকে পনির সারা বাংলাদেশেই যায়। আগে চাহিদা কম ছিলো। এখন চাহিদা অনেক বেশি।
এদিকে জেলা প্রশাসন বলছে, পনির সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, ‘পনির সংরক্ষণের জন্য আমরা একটা উদ্যোগ নেবো। এখানে একটি পনির সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের জন্য চাষিদের সঙ্গে কথা বলে তাদের কি কি চাহিদা সে অনুযায়ী তারা যাতে সংরক্ষণ করতে পারে আমরা সে উদ্যোগ নেবো।’
তিন শতকের ঐতিহ্য বুকে নিয়ে টিকে আছে অষ্টগ্রামের পনির। তবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে জিআই স্বীকৃতির গৌরব থাকলেও হারিয়ে যেতে পারে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প।
জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়া জনপ্রিয় খাবার অষ্টগ্রামের পনির। এতে উৎফুল্ল সংশ্লিষ্টরা। তবে তারা মনে করছেন এর বিকাশে প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা।





