রাত সোয়া ১০টা। হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা। কক্সবাজার এলপিজি স্টেশনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে একশো মিটার দূরের একটি গাড়ির গ্যারেজে।
গ্যারেজের উঠানে রাখা টুরিস্ট জিপগুলো একের পর এক পুড়তে থাকে। আগুনের তীব্রতায় দগ্ধ হন গ্যারেজ মালিক আব্দুর রহিমসহ ৬ জন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের পাঠানো হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বিষাক্ত গ্যাস ও ধোঁয়ায় কয়েক কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।
পুড়ে যাওয়া জিপ গাড়ির মালিক বলেন, ‘নতুন পাম্প করেছে। কর্মচারীদের অবহেলায় মনে হয় এমন ঘটনা ঘটেছে।’
আগুন নেভাতে হিমশিম খেতে হয় দমকল বাহিনীকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একে একে যোগ দেয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ১০টি ইউনিট। দীর্ঘ সোয়া ৪ ঘণ্টার চেষ্টায় রাত আড়াইটার দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন। ততক্ষণে পুড়ে ছাই হয়েছে ৬টি টুরিস্ট জিপ, দুটি মিনিবাস ও পাশের বসতঘর। ফায়ার সার্ভিস বলছে, গ্যাস আনলোড করার সময় লিকেজ থেকেই আগুনের সূত্রপাত।
আরও পড়ুন:
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস উপ-পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, ‘এ পাম্প এখনো চালু করা হয়নি। তবে আজ গ্যাস নিচ্ছিলো তারা। আনলোড করার সময় আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে। আগুন লাগার পর আমাদের দুটি ইউনিট এসে নির্বাপক করেছে। কিন্তু গ্যাস রিলিজ হবার কারণে আশেপাশে গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছে। পরে আগুন ছড়িয়ে এদিকে চলে আসে।’
বিস্ফোরণের আগে সন্ধ্যা থেকেই গ্যাস লিকেজের খবর মাইকিং করে প্রশাসন। উৎসুক জনতার ভিড় সামলাতে ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুরো এলাকা ঘিরে রাখে সেনাবাহিনী। বন্ধ করে দেয়া হয় যানবাহন চলাচল। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। তবে, জনবহুল এলাকায় গ্যাস পাম্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও দেখা দিয়েছে বড় প্রশ্ন।





