গতকাল (বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি) প্রথম রোজায় সরেজমিনে দেখা যায়, ফজরের নামাজের পর থেকেই ইফতার প্রস্তুতির বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়। প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন বাবুর্চি ও কর্মী সিংগাড়া, ছোলা, ডিম সিদ্ধ, ফিরনি, চিড়া, কলা ও খেজুরসহ নানা পদ প্রস্তুতে ব্যস্ত থাকেন। সকাল ৬টায় কাজ শুরু হয়ে বিকেল ৫টার মধ্যে রান্নার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়।
ইফতার আয়োজন ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বিকেল গড়িয়ে মাগরিবের সময় ঘনিয়ে এলে পুরো প্রাঙ্গণ এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। প্রায় ৩০০ স্বেচ্ছাসেবক শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে ইফতার বণ্টনের দায়িত্ব পালন করেন।
প্রায় পাঁচ দশক ধরে ইফতার প্রস্তুতের সঙ্গে যুক্ত বাবুর্চি মো. মুক্তার হোসেন বলেন, আমি এখানে ৪৮ বছর ধরে সিঙ্গারা তৈরির কাজ করছি। প্রতিদিন প্রায় সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার সিঙ্গারা বানানো হয়।
আরেক বাবুর্চি আসাদুর রহমান জানান, ৩০ থেকে ৩৫ জন মিলে প্রতিদিনের ইফতার প্রস্তুত করি। সময়মতো শেষ করতে সকাল থেকেই নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে হয়।
আরও পড়ুন:
ইফতারে অংশ নেয়া শিক্ষক আবু হাসান বলেন, একসঙ্গে ৫ হাজার মানুষের ইফতার, এ এক অনন্য অভিজ্ঞতা। এই আয়োজনে অংশ নিতে পেরে আমি আনন্দিত এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আমাদের ইবাদত কবুল হোক।
নলতা আহছানিয়া মিশনের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম জানান, প্রথম রমজান থেকে ৩০ রমজান পর্যন্ত প্রতিদিনই এই ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দেশ-বিদেশের ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের অর্থায়নে পুরো আয়োজন সম্পন্ন হয়। প্রতিদিন দেশের কল্যাণ ও শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, এই আয়োজন শুধু ধর্মীয় নয় সামাজিক সম্প্রীতিরও এক অনন্য দৃষ্টান্ত। প্রতিবছর সাতক্ষীরাসহ পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে হাজারো মানুষ নলতা শরীফে সমবেত হন। রমজানজুড়ে এ গণ-ইফতার নলতা শরীফকে পরিণত করে এক বৃহৎ ধর্মীয় ও সামাজিক মিলনস্থলে।





