Recent event

বর্ষায় জীবন্ত চলনবিলে প্লাস্টিক দূষণে জীববৈচিত্র্য হুমকিতে

চলনবিলে বর্জ্যদূষণ
চলনবিলে বর্জ্যদূষণ | ছবি: এখন টিভি
0

বর্ষা এলেই জীবন্ত হয়ে ওঠে চলনবিল। জলাভূমির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় জমান দর্শনার্থীরা। কিন্তু প্রকৃতির এ রূপের আড়ালেই দেখা গেছে উল্টো চিত্র। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে প্লাস্টিক বর্জ্য, যা ধ্বংস করছে বিলের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

বর্ষাকালে অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে রূপ নেয় দেশের সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত জলাশয়—চলনবিল। নীল জলরাশি আর সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য মুগ্ধ করে দর্শনার্থীদের। পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রশান্তি খুঁজে নিতে প্রতিবছরই চলনবিলে ঢল নামে হাজারও মানুষের।

কিন্তু অপার এ সৌন্দর্যের আড়ালে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে প্লাস্টিক বর্জ্য। বর্ষার পানি নেমে যেতেই চলনবিলের উর্বর কৃষিজমিতে চোখে পড়ছে ওয়ান টাইম প্লেট, গ্লাস, চিপসের প্যাকেট, পানি ও ড্রিংক্সের বোতলসহ নানা ধরনের প্লাস্টিক। পচনশীল না হওয়ায় এসব বর্জ্য মিশে যাচ্ছে মাটির সঙ্গে, কমছে জমির উর্বরতা।

কৃষকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমাদের কৃষিতে জমির যদি একটা গাছ রোপন করা যায়, ওই গাছের শিকড় কোনো দিন গজাতে পারে না।’

পরিবেশকর্মীরা বলছেন, চলনবিলের মাঝখানে অবস্থিত তিসিখালি বা ঘাসি পীরের মাজারে বর্ষা ও শুষ্ক—দুই মৌসুমেই দর্শনার্থীদের ভিড় লেগে থাকে। তাদের ব্যবহৃত প্লাস্টিক সামগ্রী ছড়িয়ে পড়ছে পুরো বিলে। এভাবে চলতে থাকলে কৃষি, মৎস্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ হুমকির মুখে পড়বে বলেও আশঙ্কা তাদের।

আরও পড়ুন:

নাটোর চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বলা হয়ে থাকে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি এ চলনবিল। এই চলনবিলের প্রকৃতির টানেই কিন্তু এখানে মানুষের আগমন ঘটে অনেক দূর-দূরান্ত থেকে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এখানে অনেক দর্শনার্থীরা আসে। এখানে কিন্তু বিভিন্ন ওয়ানটাইম প্লেট, গ্লাসসহ বিভিন্ন প্যাকেটজাত জিনিস নিয়ে আসে। সেগুলো খাওয়ার পর এই চলনবিলের মধ্যে ফেলে দেয়। কৃষকরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, চলনবিল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, চলনবিলের প্রকৃতি নষ্ট হচ্ছে।’

এমন পরিস্থিতিতে চলনবিলে ছড়িয়ে পড়া প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে সিংড়া উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা। মাজার এলাকা ও কৃষিজমি থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে প্লাস্টিক বর্জ্য।

নাটোরের সিংড়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, ‘সিংড়া-চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটি এবং একইসঙ্গে উপজেলা প্রশাসন একসঙ্গে চলনবিল এলাকাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং প্লাস্টিকমুক্ত করার জন্য অভিযান চালিয়েছি। এ অভিযান আমাদের চলমান থাবে। তিসিখালি মাজারে আমাদের উপজেলা প্রশাসন থেকে একটি ডাস্টবিন তৈরি করে দেয়া হবে যেন সেখানে যারা পূন্যার্থী বা দর্শনার্থী আসে, তাদের ব্যবহৃত প্লাস্টিক ন ডাস্টবিনে ডিসপোজ করতে পারে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলনবিলের প্লাস্টিক দূষণ ঠেকানো না গেলে সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়বে দেশের কৃষি ও মৎস্য খাত। হুমকির মুখে পড়বে জীববৈচিত্র্যও। আর তাই এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর চলনবিল।

এসএস