কুষ্টিয়ার ছয় উপজেলার জনসংখ্যা প্রায় ২৪ লাখ। সাহিত্য, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কারণে কুষ্টিয়াকে বলা হয় দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী। সারা দেশের মতো আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এখানকার ভোটের মাঠ। জেলার চারটি সংসদীয় আসনে নারী ও পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় সমান।
মোট ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ৭১২ জন ভোটারের মধ্যে নারী ভোটার ৮ লাখ ৭৪ হাজার ৩৫৫ জন, যা পুরুষ ভোটারের চেয়ে এক হাজার ১১ জন বেশি। ভোটের সমীকরণ বদলে দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে নারীদের হাতেই।
তবে ভোটকেন্দ্রিক সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলাই নারীদের ভোটে অংশগ্রহণে সবচেয়ে বড় বাধা। নারী ভোটাররা বলছেন, নিরাপদ পরিবেশ না থাকায় ভোটকেন্দ্রে যেতে ভয় পান অনেক নারী। বিভিন্ন প্রতিকূলতা থাকলেও নারীরা চান নারীবান্ধব নেতৃত্ব। যারা কার্যকর ভূমিকা রাখবেন নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরি এবং নারী শিক্ষার উন্নয়নে।
নারী ভোটারা জানান, সমাজে কোনো বৈষম্য থাকবে না, যিনি নারীকে গুরুত্ব দিবে এমন প্রার্থীকে চান তারা। নারীরা যেমন দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে, তেমনি নারীদেরও সঠিক সুযোগ সুবিধা দেয়া উচিত বলে মনে করছেন তারা।
আরও পড়ুন:
দেশে এখনও অনেক নারী ভোটার রাজনৈতিক সচেতনতার অভাবে পরিবারের পুরুষ সদস্যদের পরামর্শে ভোট দিয়ে থাকেন। আর নারী উদ্যোক্তারা বলছেন, নারীবান্ধব হওয়ার পাশাপাশি উদ্যোক্তাবান্ধব হলে তা সামাজিক স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হবে।
নারী উদ্যোক্তাদের একজন বলেন, ‘নারীদেরকে নিয়ে যারা কাজ করবে আমরা তাদেরকে নির্বাচিত করবো। যে আমাদের হয়ে কাজ করবে আমরা তাকেই ভোট দিব।’
ভোটের মাঠে সংখ্যায় এগিয়ে থেকেও সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে যেতে এখনো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন কুষ্টিয়ার নারীরা। সহিংসতামুক্ত পরিবেশ আর উন্নয়নমুখী নেতৃত্ব পেলে, এ নির্বাচনেই নারীর ভোট বদলে দিতে পারে পুরো রাজনৈতিক সমীকরণ এমন প্রত্যাশাই এখন নারী ভোটারদের।





