মৌলভীবাজারে চিকিৎসক ও ওষুধ সংকটে ভোগান্তিতে লাখো মানুষ

হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা
হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা | ছবি: এখন টিভি
0

চা আর পর্যটনের জেলা মৌলভীবাজার। অথচ এ জেলার প্রায় ২২ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সামান্য অসুখেও রোগীদের ছুটতে হচ্ছে জেলা সদর বা সিলেটে। জেলার ৬৭টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য হাসপাতালেগুলোতে নেই কোনো এমবিবিএস ডাক্তার ও পর্যাপ্ত ওষুধ।

ভোর না হতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের দীর্ঘ লাইন। কারও কোলে অসুস্থ শিশু, কেউবা বয়সের ভারে নুয়ে পড়া বৃদ্ধ। মৌলভীবাজারের সাত উপজেলার হাসপাতালে প্রতিদিনের চিত্র এটি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা। অধিকাংশ হাসপাতালে ইমার্জেন্সিসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসা দিচ্ছেন স্বাস্থ্য সহকারীরা।

মৌলভীবাজারের সাত উপজেলায় চিকিৎসক পদের অর্ধেকেরও বেশি শূন্য। শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া ও বড়লেখার মতো গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় নেই পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জেরিন ফারহানা জেরিন বলেন, ‘ স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) ডাক্তার, রেসিডেন্ট মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও), মেডিক্যাল অফিসার, কনসালট্যান্ট ও ক্যাল্টন সার্জনসহ বর্তমানে মোট ৩৮ জন ডাক্তার আছে।’

চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে সরকারি ওষুধের অভাব। ফলে বাধ্য হয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকেই ওষুধ কিনছেন রোগীরা। জুড়ী, রাজনগর, কুলাউড়া, কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল ও বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্সরে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও নেই দক্ষ টেকনিশিয়ান।

আরও পড়ুন:

চিকিৎসক ও জনবল সংকট দীর্ঘদিনের বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শূন্য পদ পূরণ ও ওষুধ সরবরাহ বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও মেলেনি সমাধান।

সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান বলেন, ‘মৌলভীবাজার আমাদের কাছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর লিখিত রিপোর্ট চেয়েছিল, আমরা সে রিপোর্ট দিয়েছি। আশা করা যায় আগামীতে আমাদের শূণ্য পদে ডাক্তার দেয়া হবে।’

দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ ও পর্যাপ্ত ওষুধ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী রোগী ও সাধারণ মানুষ।

এএম