ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পুরাতন গোমতী সেতুটি বন্ধ রয়েছে কারিগরি ত্রুটি মেরামতের জন্য। সেতুর গার্ডার ও অ্যাবাটমেন্টের মাঝখানে থাকা পট বেয়ারিংয়ের নাট-বল্টু চুরি যাওয়ায় জয়েন্টগুলো বিকল হয়ে পড়ে। এতে সেতুটি মূল সড়ক থেকে প্রায় দুই ইঞ্চি ওপরে উঠে যায়। ফলে যানবাহন উঠলে জয়েন্টে চাপ পড়ে সেতু নিচে দেবে যাচ্ছে, আর গাড়ি সরে গেলে আবার ওপরে উঠছে—এ কারণেই হচ্ছে অস্বাভাবিক কম্পন।
যানবাহন চলাচলের সময় সেতুটিতে অস্বাভাবিক কাঁপুনি অনুভূত হলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চালক ও যাত্রীদের মধ্যে। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে সেতুতে যান চলাচল বন্ধ করে।
চলাচলকারীরা জানান, এখানে যত যান চলাচল করে ব্যাপক হুমকির মধ্যে থাকে। সংস্কার না হলে যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে।
মেরামতকারী একজন ব্যক্তি বলেন, ‘যেগুলো ভেঙে গেছে সেগুলো সরিয়ে দেয়া হয়েছে। আর যেগুলো খুলে গেছে সেখানে কাজ করা হয়েছে।’
আরও পড়ুন:
ত্রুটি শনাক্তে সড়ক ও জনপথের বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী দল সেতুর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সমস্যার উৎস চিহ্নিত করেন। প্রকৌশলীরা জানান, দ্রুত মেরামত শেষে সেতুটি পুনরায় যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ বিশেষজ্ঞ দল প্রকৌশলী সৌরভ মজুমজদার বলেন, ‘ভবিষ্যতে একটিই কাজ হবে প্রতিটি ব্রিজ মাঝে মাঝে মেরামত করতে হবে। কোনো সমস্যা আছে কিনা দেখতে হবে। নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।’
নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম বলেন, ‘কারিগরি যাচাই করা হচ্ছে। সেগুলো সম্পাদন শেষে আমরা বলতে পারব। কিছু কিছু জায়গা আমরা সিসি টিভির আওতায় নিয়ে আসব।’
চুরির কারণে সেতুটির কারিগরি ত্রুটি এর নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এতে উদ্বিগ্ন যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
চলাচলকারীরা জানান, ব্রিজের বিভিন্ন স্প্রিং চুরি করে নিয়ে গেছে। ব্রিজে চলাচল করার সময় বোঝা যাচ্ছিলো তা কাঁপছে। এ সময় দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তারা।
১৭টি স্প্যানের সেতুটি ১৯৯৫ সালে নির্মিত হয় গোমতী নদীর উপর। প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার যানবাহন চলাচল করে এ সেতু দিয়ে। পুরাতন সেতু বন্ধ থাকলেও নতুন সেতু দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।





