চীনকে সামলানো আর অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ প্রশমন—দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জে ভারত

অরুণাচল সীমান্ত
অরুণাচল সীমান্ত | ছবি: সংগৃহীত
0

চীনের সঙ্গে সীমান্ত সংঘাত আর সিয়াং নদীর উপর বাঁধ নির্মাণ নিয়ে স্থানীয়দের প্রতিরোধ- অরুণাচল প্রদেশে দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি ভারত সরকার। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন, অরুণাচলের আন্দোলন স্বতন্ত্র, সহনশীল আচরণ না করলে দেশের অভ্যন্তরে ফাটল আরও বাড়বে। তাদের পরামর্শ, জটিল এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে নয়াদিল্লিকে আস্থা রাখতে হবে নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থায় আর বেইজিংকে সামলাতে হবে কূটনৈতিক উপায়ে।

চীনের বাঁধ নির্মাণের পাল্টা জবাব দিতে অরুণাচল প্রদেশে সিয়াং উপত্যকায় দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও বাঁধ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। যার প্রতিবাদে ব্যাপক আন্দোলন শুরু করেছে স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায় এবং বিভিন্ন যুব সংগঠন। সোমবার ১২ ঘণ্টার বন্ধ ডাকার পর আন্দোলন রূপ নেয় সহিংসতায়। পুলিশ স্টেশন, সরকারি সম্পত্তি এবং জাতীয় হাইড্রোক্লাউড পাওয়ার কর্পোরেশনের অফিসে আগুন দেয় ছাত্রজনতা।

বিক্ষোভকারী স্থানীয় উপজাতিদের আশঙ্কা, এই প্রকল্পের জলাধার তাদের গ্রামগুলিকে ডুবিয়ে দিতে পারে এবং সিয়াং সঙ্গে তাদের গভীর সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে। অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য বলছেন, তিব্বতের এই নদীর উপর বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। সরকারের দাবি, প্রস্তাবিত এই প্রকল্প বন্যা নিয়ন্ত্রণে এবং চীনা বাঁধের প্রভাবকে 'প্রতিরোধ' করতে সাহায্য করবে।

বাঁধ নির্মাণের এই প্রতিযোগিতার মূলে অরুণাচলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নয়াদিল্লি বেইজিং সম্পর্ক। অরুণাচলকে নিজেদের দাবি করে চীন। সরকারি মানচিত্রে অরুণাচলের বিভিন্ন স্থানের নামকে নিজেদের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করতে পাল্টাপাল্টি প্রতিযোগিতা চলছে দুই পরাশক্তির মধ্যে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন এলাকায় উভয় সেনাদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান এবং উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভারতীয় ভূখণ্ডের ৫০ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে পড়েছে চীনা সেনারা- এমন অভিযোগও করছেন সরকার বিরোধীরা।

আরও পড়ুন:

বাঁধবিরোধী আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়ার পর নতুন করে বিক্ষোভের আশঙ্কায় অরুণাচলে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করছে কেন্দ্রীয় সরকার।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, অরুণাচল এখন এক দ্বি-মুখী সমস্যা, যা পরিণত হয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা এজেন্ডায়। ভারতীয় লেফটেন্যান্ট জেনারেল এবি শিবানের মতে, চীনের সাথে পাকিস্তানের কৌশলগত সম্পর্ক ইতিমধ্যেই নয়াদিল্লির উদ্বেগের কারণ। আবার, রেডিমেট পণ্যের বাজার ছাড়াও ইলেকট্রনিক্স, লিথিয়াম, কোবাল্ট ও দুর্লভ খনিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের জন্য চীনের প্রতি ভারতের অর্থনৈতিক নির্ভরতা একটি কৌশলগত দুর্বলতা আছে। ২০২৫-২৬ অর্থ বর্ষে চীন থেকে ভারতের আমদানি ছিল প্রায় ১৩১.৬ বিলিয়ন ডলার। তাই, নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থায় আস্থা রেখে বেইজিংকে সামলাতে হবে কূটনৈতিক উপায়ে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, বাঁধ নির্মাণের বিপক্ষে অভ্যন্তরীণ সংহতিও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়। চাকরির পরীক্ষার অনিয়ম, কর্মসংস্থানের অভাব, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে যে সব আন্দোলন হয়েছে বা হচ্ছে এইসবই স্বতন্ত্র অভিযোগের প্রতিফলন। এগুলোকে একটি একক আন্দোলন হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। আকার ইঙ্গিতে ভারত সরকার তাই করার চেষ্টা করছে। আন্দোলনরতদের সঙ্গে সহনশীল আচরণ না করলে দেশের অভ্যন্তরে ফাটল আরও বাড়বে।

এফএস