ঝালকাঠি জেলার মো. নাসির। কিডনি রোগে আক্রান্ত চাচীকে নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে আসেন ঢাকা মেডিকেলে। অবস্থা গুরুতর হলে তাকে জাতীয় কিডনি রোগ ও ইউরোলজি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। কিন্তু বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকদের ধর্মঘটে ৫ ঘণ্টাতেও মেলেনি কোন অ্যাম্বুলেন্স। এতে মুমূর্ষু চাচীকে নিয়ে হাসপাতালের সামনে নিরুপায় মো. নাসির।
মো. নাসির বলেন, ‘প্রাইভেট কারে যারা যারা আসে তাদেরকে বের করে দেয়। আনলে অ্যাম্বুলেন্স ভেঙে ফেলানো হবে। আমরা যেটা নিয়ে এসেছি তাকে বলেছে এক মিনিটও দাঁড়াবে না। রোগী নামাই দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে বের হয়ে চলে যাবা।’
শুধু নাসিরই নয়, হাসপাতালের ভেতরে পার্কিংয়ের দাবিতে গেল সোমবার রাত থেকে চলা বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকদের ধর্মঘটে বিপাকে পড়েছেন অসংখ্য রোগী ও স্বজন। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ মরদেহ টেনেছে পিকআপ ভ্যানে- এমনকি পায়ে চালিতভ্যানেও। বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করেও মেলেনি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, বিভিন্ন জেলা থেকে আগত অ্যাম্বুলেন্সকেও ভাড়া নিতে বাধা দিচ্ছে একটি চক্র। ঢাকা মেডিকেলে রোগী নামানোর ক্ষেত্রেও বাধার সম্মুখীন হয়েছেন অনেক চালক।
ভুক্তভোগীরা জানান, এখানে অ্যাম্বুলেন্স যাবে না, ধর্মঘট ডেকেছে। বাইরের অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে আসলেও তারা (অ্যাম্বুলেন্স চালকরা) বাধা দিচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা মেডিকেলে নতুন পরিচালকের সিদ্ধান্তে হাসপাতালের ভেতরে পার্কিংয়ের সুযোগ না পাওয়ায় এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালক কল্যাণ সমিতি। দাবি না মানলে ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সমিতির নেতাদের।
অ্যাম্বুলেন্স চালকদের একজন বলেন, ‘নতুন পরিচালক আসার পরে আমাদের বলছে, আমাদের নতুন বিল্ডিংয়ের মেডিকেল টুয়ের আন্ডারগ্রাউন্ডে ৩০টি গাড়ির পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। আবার হুট করে উনি গাড়িগুলো বের করে দিয়েছে। আমাদেরকে সুন্দর মতো রোগীদের সেবা সেবা দিতে পারে সে ব্যবস্থা করে দেওয়া হয় তাহলে আমরা আমাদের ধর্মঘট উইথড্র করে নেব।’
এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিপুল সংখ্যক রোগী বহনে যে সংকট তৈরি হয়েছে তা নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ সকলের।





