সড়কে বাড়ছে শিশুমৃত্যুর ঘটনা; প্রশ্নের মুখে মোটরসাইকেলের বিজ্ঞাপন

রাতের সড়ক
রাতের সড়ক | ছবি: এখন টিভি
0

দেশের সড়কগুলো যেন আজ যেন এক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত ৬ বছরে, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় আট হাজার শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে, যার বড় একটা অংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। মোটরসাইকেল ব্র্যান্ডগুলোর বিজ্ঞাপনের ভাষা ব্যবহারে সতর্কতার তাগিদ যোগাযোগ গবেষকদের।

পূর্বাচল উপশহরের ৩০০ ফুট সড়কের পাশে রাত হলেই ছবি তোলার ব্যস্ততা দেখা যায় সৌখিন বাইকারদের মধ্যে। এখন টিভির ক্যামেরা দেখে কেউ কেউ সটকে পরলেও কথা বলার চেষ্টা করি এই সড়কে ঘুরতে আসা কয়েকজন বাইকারের সঙ্গে। তারা জানান, এখানে বাইক নিয়ে এসে ছবি তুলতে তাদের ভালো লাগে।

পূর্বাচল উপশহরের স্থানীয়রাও বললেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক বাইকাররা ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়েকে রীতিমত বানিয়েছে স্পিড ট্র্যাক। যেখানে ট্রাফিক নিয়মের তোয়াক্কা করেনা কেউ, যা ধরাও পরে এখন টিভির ক্যমেরায়।

স্থানীয় ও এই পথে চলাচলকারীরা জানান, এই সড়কে খামখেয়ালিভাবে বাইক চালায়। এদের পুলিশ প্রশাসন কিছু বলে না।

গতির রোমান্স আর অপ্রাপ্তবয়স্কদের হাতে মোটরসাইকেল তুলে দেওয়ার আত্মঘাতী প্রবণতায় প্রতিদিনই ঝরছে প্রাণ। সম্প্রতি রাজধানীর পূর্বাচল ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়েতে ট্রাকের সঙ্গে উল্টো পথে আসা মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয় তিন বন্ধু। যাদের প্রত্যেকেই অপ্রাপ্তবয়স্ক। বিষাদময় ট্র্যাজেডির পর আদৌ কি সাবধান হয়েছে কেউ?

স্থানীয় একজন বলেন, ‘ছেলেমেয়ে নিয়ে মানে উল্টাপাল্টা গাড়ি চালায়। মানে ১৫০, ১৬০, ১৬০ এরকম টান থাকে।’

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৯৬৩টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো তথ্য হলো নিহত শিশুদের ৩৭ দশমিক ১৪ শতাংশ বা ২ হাজার ৯৫৮ জনই প্রাণ হারিয়েছে মোটরসাইকেল চালক বা আরোহী হিসেবে।

বিআরটিএ-এর তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশের নিবন্ধিত মোট যানবাহনের প্রায় ৭০ শতাংশই মোটরসাইকেল। সহজ কিস্তি আর গণপরিবহনের বিকল্প হিসেবে প্রায় ৫০ লাখের বেশি মোটরসাইকেল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সড়ক থেকে মহাসড়কে।

যোগাযোগ গবেষকদের মতে গতির রোমান্সকে প্রমোশন করছে, মোটরসাইকেল ব্র্যান্ডগুলো , বিজ্ঞাপনের ভাষা ব্যবহারে সতর্কতার তাগিদ দেন তারা।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, ‘গতির প্রতিযোগিতার মধ্যে একটা রোমাঞ্চ অনুভব করে। এইটা খুব খারাপ একটা লক্ষণ। কিন্তু সেই রোমাঞ্চকে আবার উৎসাহিত করতেছে মোটরসাইকেল কোম্পানিগুলো। তাদের যে বিজ্ঞাপনের ভাষাভঙ্গি, সেখানে কিন্তু তারা গতির প্রতিযোগিতাকে উৎসাহিত করছে।’

প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার পরও সামনে এসেছে ট্রাফিক আইন অমান্যের বিষয়টি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়েতে এ আই মামলার পাশাপাশি ম্যানুয়াল মামলা চলমান রয়েছে।

ডিএমপি’র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী বলেন, ‘চেকপোস্টে কিন্তু যদি এরকম পাওয়া যায় যে লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেল বা ড্রাইভিং লাইসেন্সহীন, অনেক সময় এটা কিন্তু সিজ করা হয়। যানবাহনটা সিজ করে ডাম্পিং করা হয় এবং পাশাপাশি জরিমানা তো আছে।’

আধুনিক সড়কগুলো যেন অকাল মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত না হয় সেক্ষেত্রে নিয়মিত স্পিড গানের ব্যবহার, তলাশি চৌকি বসানো হচ্ছে। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে প্রয়োজন পারিবারিক সচেতনতা বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

জেআর