সৌদিতে হুথিদের ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত; হুমকি উপেক্ষা করে রিয়াদ বিমানবন্দর চালু

ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চলীয় মারিব প্রদেশে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ছেন হুথি যোদ্ধা
ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চলীয় মারিব প্রদেশে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ছেন হুথি যোদ্ধা | ছবি: আল জাজিরা
0

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ছোড়া অন্তত ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। এদিকে হামলা ও হুমকির ঝুঁকি উপেক্ষা করে রাজধানী রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ফের ফ্লাইট চলাচল শুরু করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানান, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকা লক্ষ্য করে হুথিদের ছোড়া ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশে ধ্বংস করা হয়েছে। এই হামলার প্রেক্ষাপটে তায়েফ, জাজান এবং আসির প্রদেশের তানুমাহ, আভা, নামাস ও খামিস মুশাইত এলাকায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সম্ভাব্য বিপদের জরুরি সংকেত জারি করে সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর। পরে বিপৎসীমা কেটে যাওয়ায় সতর্কতা তুলে নেয়া হলেও নাগরিকদের জমায়েত এড়িয়ে চলতে এবং ছবি না তোলার নির্দেশ দেয়া হয়।

দুই সপ্তাহ আগে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ১ ও ২ নম্বর টার্মিনাল দিয়ে শনিবার আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচল পুনরায় চালু করা হয়। তবে বিমানবন্দরটি খোলার পরপরই হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এটিকে তাদের বাহিনীর জন্য একটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু বলে ঘোষণা দেন। তিনি দাবি করেন, বিমানবন্দরটি এখনো পুরোপুরি অনিরাপদ এবং সব দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনস ও সাধারণ যাত্রীদের এটি ব্যবহার না করার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হামলার পাশাপাশি ইয়েমেনের ভেতরের পরিস্থিতিও দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব এল-মান্দেব প্রণালির কাছে উপকূলীয় অঞ্চল পুনর্দখলে সরকারি বাহিনী জোরালো অভিযান শুরু করায় ২০২২ সাল থেকে কার্যকর থাকা জাতিসংঘের যুদ্ধবিরতি ভেঙে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে তায়েজ নগরীর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে জাবাল সাবর পর্বতমালা এলাকায় সরকারি সেনা ও হুথিদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সম্মুখযুদ্ধ চলছে। কৌশলগত এই পর্বতমালার নিয়ন্ত্রণ হারালে পুরো তায়েজ শহরের যোগাযোগ অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে। এদিকে সংঘাতকবলিত এলাকাগুলোর আশ্রয়শিবিরগুলোতে তীব্র মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে এবং জরুরি যুদ্ধবিরতি না হলে সেখানে কলেরার মতো পানিবাহিত মহামারি ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

তুরস্কের আনাদোলু বার্তা সংস্থাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আল-জুবা জানান, ইরানি বিশেষজ্ঞদের প্রযুক্তিগত সহায়তায় নিজেদের ভূখণ্ডেই বিধ্বংসী অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করেছে হুথিরা। তিনি অভিযোগ করেন, লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে পুরো বিশ্বকে অস্থিতিশীল করার একটি মঞ্চ হিসেবে দেশকে ব্যবহার করতে চাইছে এই গোষ্ঠী। শান্তি আলোচনার সুযোগ নিয়ে হুথিরা অস্ত্র মজুত বাড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ৫ অক্টোবর শুরু হওয়া অপারেশন ইয়েমেনি ডন অভিযানের মূল লক্ষ্য হুথিদের নিরস্ত্র করে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ফিরিয়ে আনা।

এএম