বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে কতশত ইতিহাস আর ঐতিহ্য। তেমনি একটি গ্রাম নওগাঁর কুশাডাঙ্গা। সাধারণ মানুষের কাছে এই গ্রামটি পরিচিত ‘মাজারের গ্রাম’ নামে।
নওগাঁ সদর উপজেলার হাপানিয়া ইউনিয়নের এই গ্রামে ছোট বড় মিলিয়ে অন্তত ১২টি মাজার রয়েছে। শতবছর আগে খাজা মঈনুদ্দিন চিশতির কাছে সিলসিলাপ্রাপ্ত হয়ে হযরত খাজা পীর আব্বাস আলী দেওয়ান চিশতি স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। দীক্ষা ও চিশতীয়া ধারার মাধ্যমে জ্ঞান বিস্তার শুরু করেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, আব্বাস আলী দেওয়ান চিশতির বিভিন্ন এলাকায় অনেক ভক্ত আছেন। ভালোবাসার টানেই তারা ছুটে আসেন এই মাজারে।
শতবছর আগে ইসলাম প্রচারে এসে কুশাডাঙ্গা গ্রামে বসবাস শুরু করেন সুফি সাধকরা। পরে তাদের আধ্যাত্মিক চেতনার বিস্তার ঘটে আশেপাশের বিভিন্ন গ্রাম শহরেও। ধর্ম প্রচার করে এই গ্রামেই সমাহিত হন তারা।
তারপর থেকেই কুশাডাঙ্গা পরিচিতি পায় মাজারের গ্রাম নামে। হযরত খাজা পীর আব্বাস আলী দেওয়ান চিশতি মাজারটি স্থানীয়দের কাছে গভীর বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের কেন্দ্রবিন্দু। যুগ যুগ ধরে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে জিয়ারতের উদ্দেশ্যে।
কুশাডাঙ্গার এই মাজারগুলো এখন শুধু ধর্মীয় স্থানই নয়, বরং এই অঞ্চলের মানুষের বিশ্বাস আর ঐতিহ্যের এক বড় অংশ। ধর্ম-বর্ণ বির্নিশেষে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে এখানে বসে মিলনমেলা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন আত্মিক শান্তির খোঁজে।
একুশে পরিষদ নওগাঁর সভাপতি অ্যাডভোকেট ডি.এম আব্দুল বারী বলেন, ‘ইসলামের আলোয় বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় যেমন পীর আওলিয়ারা এসেছেন, এখানকার পীর-ওলী-আওলিয়াদেরও বিশাল একটা অবদান আছে ইসলাম প্রচারের জন্য। এদিক থেকে মানুষ যেমন ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছেন, তেমনই সেটি তারা ইসলাম প্রসারে কাজে লাগিয়েছে। এই সুফিবাদের প্রসারটা তাদের মাধ্যমেই হয়েছে।’
শত বছরের প্রাচীন ইতিহাস বুকে নিয়ে কুশাডাঙ্গা গ্রাম আজও ধরে রেখেছে তার নিজস্ব ঐতিহ্য। ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে আসা সেই সাধকদের স্মৃতি আজ এই গ্রামকে দিয়েছে এক অনন্য পরিচিতি।





