টোকিওতে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের কংগ্রেসে উপস্থিত হতেই মিলেছে এশীয় ফুটবল ব্লকের পূর্ণ সমর্থনের প্রতিশ্রুতি। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতির চেয়ারে চতুর্থ মেয়াদে বসার পথটি বেশ সুগম করে টকিও ছেঁড়েছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
অথচ মাত্র দুই মাস আগেই বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে ইনফান্তিনোর তীব্র সমালোচনা করেছিলেন এএফসি সভাপতি শেখ সালমান। তবে এবার তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, অতীতের তিক্ততা ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামনের দিকে এগোতে চায় এশীয় ফুটবল পরিবার।
এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বলেন, ‘ফিফা সভাপতি হিসেবে আপনার নতুন মেয়াদের জন্য আমাদের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করছি। অতীতে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য ছিলো ঠিকই, কিন্তু সেগুলোকে আজকের সমর্থনের সঙ্গে মেলানো ঠিক হবে না। জুরিখের বৈঠকে আমাদের মধ্যে স্পষ্ট সমঝোতা হয়েছে। এক এশীয় পরিবার হিসেবে আমরা একতাবদ্ধ হয়ে আপনার পাশে থেকে সামনে এগোতে প্রস্তুত, জিয়ান্নি।’
তবে এএফসি সভাপতির এই একক ঘোষণায় এশিয়ার ৪৭টি দেশের মতামত পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়েছে কি না, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় আছে। জাপান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান সুনেয়াসু মিয়ামোতো জানিয়েছেন, তারা এএফসির সাধারণ লাইনে হাঁটলেও পুরো মহাদেশ সম্পূর্ণ একমত কি না তা নিশ্চিত নয়।
জাপান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান সুনেয়াসু মিয়ামোতো বলেন, ‘এএফসির সব সদস্যের মতামত শতভাগ এক আছে বলে আমার মনে হয় না। তবে ইনফান্তিনো বিতর্কিত প্রকল্পটি প্রত্যাহার করেছেন এবং এর জন্য ক্ষমা চেয়েছেন, যা সবাই ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। আমরা সার্বিক দিক বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’
এএফসি প্রধানের পূর্ণ সমর্থনের আগেই ইনফান্তিনোকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছিলেন আফ্রিকা ফুটবলের প্রধান প্যাট্রিস মোটসেপে।
আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা এবং সবশেষ এশিয়ার সমর্থনের পর কেবল বিশ্ব ফুটবলে ইউরোপীয় সংস্থা উয়েফা একাই ইনফান্তিনোর বিরোধিতায় রয়ে গেছে। প্রার্থীর নাম জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৮ই নভেম্বর হলেও কোনো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ২০৩১ সাল পর্যন্ত ইনফান্তিনোর পদে টিকে থাকা এখন কেবলই আনুষ্ঠানিকতা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।





