স্পেনে গিয়েছেন মেসি, পাচ্ছেন প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার

মেসি ও তার স্ত্রী
মেসি ও তার স্ত্রী | ছবি: সংগৃহীত
1

মর্যাদাপূর্ণ প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার নিতে স্পেনে পৌঁছেছেন বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ক্রীড়া ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মেসির হাতে উঠতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার। এর আগে শত শত শিশুর উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে মেসির এই বিশেষ আয়োজন। আলোচনায় উঠে আসে স্পেনের কাছে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে হার, বার্সেলোনায় তার শুরুর দিনগুলো এবং ফুটবলে তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো।

স্পেনে আস্তুরিয়াস পুরস্কার নিতে গিয়ে ভক্তদের ভালোবাসায় সিক্ত আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অসংখ্য সাফল্যের পর নতুন প্রজন্মের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন এলএমটেন। বিশ্বকাপের ফাইনালে হার। স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা। তবু পুরো টুর্নামেন্টের পথচলাকে ব্যর্থতা হিসেবে দেখতে নারাজ লিওনেল মেসি।

শিরোপা জিততে না পারলেও, ফাইনালে ওঠার অর্জনকেই বড় করে দেখছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। স্পেনের কাছে হারের পর এবার নিজের অনুভূতি আর ফুটবলজীবনের নানা অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন স্কুলশিক্ষার্থীদের সঙ্গে।

লিওনেল মেসি বলেন, ‘সর্বশেষ বিশ্বকাপে স্পেনের কাছে আমরা হেরেছি। তবে পুরো টুর্নামেন্টে আমাদের যাত্রা ছিলো অসাধারণ। আমরা ফাইনালে পৌঁছেছিলাম আর ফাইনালে ওঠা মোটেও সহজ নয়।’

বার্সেলোনায় ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোও ছিলো চ্যালেঞ্জিং। রোনালদিনহো, স্যামুয়েল ইতো, জাভি ও পুয়োলের মতো তারকাদের পাশে খেলতে গিয়ে শুরুতে নার্ভাস ছিলেন মেসি। সতীর্থরাই তাকে সবকিছু ভুলে খেলাটা উপভোগ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

লিওনেল মেসি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কীভাবে হারতে হয়, আর কীভাবে জিততে হয়, তা জানা। ফুটবলে জয়ের চেয়ে হারই বেশি আসে। হার মেনে নেয়ার মানসিকতা থাকতে হবে, তবে হারের সঙ্গে অভ্যস্ত হওয়া যাবে না।’

গতকাল (বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর) সকালে ওভেইদোতে পৌঁছান মেসি। হোটেলের বাইরে আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিলেন অসংখ্য ভক্ত ও সাংবাদিক। বিশ্রাম শেষে আনুষ্ঠানিক পোশাকে বাইরে এসে সমর্থকদের সঙ্গে সময় কাটান আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা।

বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনার জার্সিতে অটোগ্রাফ, ভক্তদের সঙ্গে ছবি তোলা, আর ভালোবাসার উপহার গ্রহণ সব মিলিয়ে মেসিকে ঘিরে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। তবে এবারের সফর মেসির কাছে শুধুই একটি পুরস্কার গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গভীর ব্যক্তিগত আবেগ।

এই সম্মাননা নিয়ে সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বসিত ছিলেন তার প্রয়াত বাবা হোর্হে মেসি। মেসি জানিয়েছেন, বাবা বারবার তাকে স্পেনে এসে পুরস্কারটি গ্রহণ করতে উৎসাহ দিয়েছিলেন। তাই এই স্বীকৃতি তার কাছে আরও বিশেষ।

ফুটবলে অসামান্য অবদানের পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় কাজের স্বীকৃতি হিসেবেও মেসিকে দেয়া হচ্ছে এই সম্মাননা। সব মিলিয়ে, মেসির এই স্পেন সফর একদিকে যেমন ফুটবলীয় অর্জনের উদযাপন, অন্যদিকে তেমনি বাবার স্মৃতিতে আবেগঘন এক অধ্যায়।

জেআর