‘উচ্চ মজুরি, উন্নত পেনশন ও জনসেবা; জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির বিরুদ্ধে পর্তুগালের নতুন পথ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে দেশটির পোর্তো, কইমব্রা এবং রাজধানী লিসবনে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ইউরোপজুড়ে জ্বালানির চড়া মূল্য, মূল্যস্ফীতি এবং সাধ্যের মধ্যে বাসাভাড়া না পাওয়ার সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে।
কইমব্রায় সিজিপিটির একজন মুখপাত্র স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘জীবনযাত্রার খরচ, আবাসন ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় সাধারণ পণ্যের বাজারও এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।’
পোর্তো শহরে বাটালহা স্কয়ার থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি শেষ হয় ডম জোয়াও স্কয়ারে, যেখানে সপ্তাহজুড়ে আবাসনসংকট নিয়ে সমাবেশ চলছিল। বিক্ষোভের অন্যতম সংগঠক পেদ্রো ম্যানুয়েল জানান, কোনো দলীয় সংশ্লিষ্টতা ছাড়াই নাগরিক ঐক্যের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ এই সংকটের প্রতিবাদ জানাতে সমবেত হয়েছেন।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেশটির রাজনৈতিক দল লেফট ব্লকের নেতা হোসে ম্যানুয়েল পুরেজা বলেন, ‘সাধারণ মানুষ সবার জন্য বাসস্থানের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন। যাদের বাসাভাড়া ক্রমাগত বাড়ছে এবং ব্যাংক ঋণের কিস্তি দিতে যাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, এটি তাদেরই শান্তিপূর্ণ ক্ষোভের প্রকাশ।’
এদিকে রাজধানী লিসবনেও হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়ে কায়েস দো সোদ্রে থেকে রোসিও পর্যন্ত বিক্ষোভ পদযাত্রা করেন। বিক্ষোভ শুরুর আগে লিসবনের মেয়র আন্দোলনকারীদের দাবিকে ন্যায়সংগত উল্লেখ করে আইনের মধ্যে থেকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
পর্তুগিজ বার্তা সংস্থা লুসাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সিজিপিটির সাধারণ সম্পাদক তিয়াগো অলিভেইরা বলেন, আবাসন খরচ ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চরম বৃদ্ধির কারণেই জনগণ রাজপথে নেমেছে। একই সঙ্গে সরকারি পরিষেবাগুলোর মানের মারাত্মক অবনতি হওয়ায় সরকারের নীতি পরিবর্তনের দাবিতে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে।
একই দিনে ফ্রান্সেও জীবনযাত্রার ব্যয়সংকটের প্রতিবাদে দেশব্যাপী ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে।





