দুর্বল কাঠামোর ওপর নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে বহুতল ভবন নির্মাণেই ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা- বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পেশোয়ারে স্কুল ভবনের ছাদ ধসে বহু শিক্ষার্থীর হতাহতের ঘটনার পর এমনটাই দাবি পুলিশ ও স্থানীয় প্রকৌশল বিশেষজ্ঞদের।
প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর অভিযোগ উঠেছে, স্কুল ভবনটি নির্মাণে খুবই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল। এর জেরে, হেফাজতে নেয়া হয়েছে ঐ জোনের স্কুল মালিককে। ভয়াবহ ও মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পরপরই দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ঝুঁকি ও নির্মাণ প্রটোকল তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট। উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারও জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনাকে হালকাভাবে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ।
দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবনগুলোর নিরাপত্তা প্রটোকল খতিয়ে দেখতে সরকারের এমন তোড়জোড়- কতটা কার্যকরী হবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় প্রশ্ন। কারণ, ভবন ধসে পাকিস্তানে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে হরহামেশাই। আর প্রতিবারই তদন্ত প্রতিবেদনে দায়ী করা হচ্ছে দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণের ব্যবহারকে।
আরও পড়ুন:
চলতি বছরের মে থেকে জুলাই। পাকিস্তানে তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়তে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাদ আর দেয়াল। ২ জুলাই লাহোরে নির্মাণকাজ চলার সময় বেসরকারি স্কুল ভবনের ছাদ ধসে মৃত্যু হয় ৮ বছরের শিশুর। ৩০ জুন সিন্ধু প্রদেশের সরকারি স্কুলের বাউন্ডারি দেয়ালের অংশ ধসে তিন কন্যা শিশুর প্রাণ যায়। কারণ, মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে দেয়ালটির পাশ ঘেঁষে যাচ্ছিল তারা। একই দিনে লাহোরে টিউশন সেন্টারের ছাদ ধসে মারা যায় ১৪ শিশু। ৭ মে পাঞ্জাবের এক বেসরকারি স্কুলের ক্লাসরুমের ছাদ ধসে ঝড়ে যায় আরও ৪ শিশুর প্রাণ। মাত্র ৫৪ দিনের ব্যবধানে এতগুলোর শিশুর মৃত্যু- কী ব্যবস্থা নিয়েছিল সরকার?
পাকিস্তানি গণমাধ্যমের অনুসন্ধান বলছে, দুর্বল তদারকি ও নিয়মিত পরিদর্শনের অভাব, অনুমোদনবিহীন নির্মাণ, ব্যয় কমাতে নিম্নমানের উপকরণ, আবাসনের চাপ, একাধিক সংস্থার মধ্যে দায়িত্বের বিভাজন, লোকবল ও কারিগরি সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, শাস্তি কার্যকরে দুর্বলতা আর সবশেষে নির্মাণের পর নজরদারির অভাব। এমনই এক কলুষিত সিস্টেমে চলছে পাকিস্তানের নগরায়ণ প্রক্রিয়া। যেখানে রাষ্ট্রযন্ত্র থেকে জনগণ- ডেভলপার সংশ্লিষ্ট ভবন ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা- নিয়মের ধার ধারছে না কেউই।




