রাবনাবাদ নদীর তীরে চরিপাড়ায় অবস্থিত পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে খালাস করা পণ্য সেতুটি চালু হলে সরাসরি সড়কপথে দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক কেন্দ্রে নেয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের বন্দরে যাতায়াত সহজ হবে। এতে বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বন্দরের আওতাধীন শিল্পাঞ্চলে বিভিন্ন কলকারখানা স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বন্দরের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসব শিল্পকারখানায় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
এদিকে, সেতুর ডেক নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার কয়েক দিন আগেই পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে বড় ধরনের পরিচালন সরঞ্জাম পৌঁছেছে। গত ৭ অক্টোবর সকালে চীনের পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ‘ফান ঝৌ-৬’ সরাসরি টার্মিনালে নোঙর করে। জাহাজটিতে পণ্য ওঠানো-নামানোর পাঁচটি আধুনিক সরঞ্জাম আনা হয়। দুই বছর পর এই প্রথম টার্মিনালে বড় ধরনের পরিচালন সরঞ্জাম পৌঁছালো।
আন্ধারমানিক নদীর ওপর নির্মিত সেতুটির দৈর্ঘ্য ১ হাজার ১৮০ মিটার। এক্সট্রাডোজড প্রযুক্তিতে নির্মিত সেতুটির টাওয়ারের উচ্চতা ৫৮ দশমিক ৫ মিটার। মূল ডেকের প্রস্থ ২৩ দশমিক ২ মিটার এবং সংযোগ ডেকের প্রস্থ ২১ দশমিক ২ মিটার। সেতুটিতে দুই দিকে দুটি করে মোট চারটি লেন রয়েছে।
নদীতে নৌযান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে মাত্র দুটি প্রধান পিলারের ওপর সেতুটি নির্মাণের নকশা করা হয়েছে। এতে জাহাজ ও লঞ্চ চলাচলে বাধা কমার পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা সম্ভব হবে।
২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রথম পাইল স্থাপনের মধ্য দিয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) এবং চায়না রেলওয়ে ব্রিজ কনস্ট্রাকশন গ্রুপ (সিআরবিজি) যৌথভাবে সেতুটি নির্মাণ করছে। নির্মাণকাজ তদারকি করছে একটি দক্ষিণ কোরীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান।
সেতুর নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোয় এটি স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই অনেকে নির্মাণস্থলের পাশের ছয় লেনের সড়কে জড়ো হয়ে সেতুর অগ্রগতি দেখছেন। প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী, রাতে সেতুটিতে বিশেষ আলোকসজ্জা করা হবে, যাতে শাপলা ফুলের আকৃতি ফুটে ওঠে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সেতুটি চালু হলে শুধু যান চলাচল সহজ হবে না, পায়রা বন্দরের সড়ক যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনব্যবস্থাও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি স্থানীয় পরিবহন নেটওয়ার্কের উন্নয়ন এবং বন্দরের কার্যক্রম সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এটি। সব মিলিয়ে, সেতুটি দক্ষিণাঞ্চলের বাণিজ্য, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

 leader Abhijeet Dipke and AISA chief Neha Bora-320x167.webp)



