আজ (বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর) রেডিও নিউজিল্যান্ডের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের পূর্ণ টিউশন ফি-ভিত্তিক ভিসার ৬ হাজার ২৭৩টি আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ড। অথচ ২০২৫–২৬ অর্থবছরের পুরো সময়ে এ ধরনের ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল ৭ হাজার ৫০৩টি।
এ সময়ে পূর্ণ টিউশন ফি-ভিত্তিক শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যানের সামগ্রিক হার বেড়ে ৩৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগের অর্থবছরে এ হার ছিলো ১৩ শতাংশ।
ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ড আরএনজেডকে জানিয়েছে, ভিসার আবেদনে জালিয়াতির ঘটনা ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য করা ভিসার আবেদনে জালিয়াতির ঘটনা বাড়ায় প্রত্যাখ্যানের হারও বেড়েছে।
আরও পড়ুন:
তবে অভিবাসন এজেন্টদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপ-এজেন্টনির্ভরতার কারণেও ভিসা প্রত্যাখ্যান বাড়ছে। এসব উপ-এজেন্ট বিপুলসংখ্যক ভিসার আবেদন পরিচালনা করতে গিয়ে কিছু ক্ষেত্রে ভুল বা জাল আর্থিক নথিপত্র জমা দিয়েছেন। ফলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই কঠোর করেছে, যার প্রভাব পড়ছে প্রকৃত শিক্ষার্থীদের ওপরও।
এজেন্টরা আরও জানান, নিউজিল্যান্ডের ভিসার নিয়মকানুন সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা নেই—এমন কিছু শিক্ষা পরামর্শক কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসার শর্ত কঠোর করার পর নিউজিল্যান্ডে শিক্ষার্থী পাঠানোর দিকে ঝুঁকেছেন।
এর আগে, ২০২৪ সালে এবং ২০১৬ সালের দিকেও ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার একইভাবে বেড়েছিল। সে সময় ভিসার আবেদনে জাল নথিপত্র ব্যবহার এবং উপ-এজেন্টদের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল নিউজিল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ।
অভিবাসন পরামর্শকেরা জানান, জাল আবেদন শনাক্ত করতে যাচাই-বাছাই আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তবে এ ক্ষেত্রে প্রকৃত শিক্ষার্থীরা যাতে অযথা ভোগান্তিতে না পড়েন, তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।





